মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী সামরিক হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ ও একটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের মধ্যে আকাশসীমায় বিপজ্জনকভাবে দূরত্ব কমে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে হোয়াইট হাউস থেকে অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটির উদ্দেশে মেরিন ওয়ান উড্ডয়ন করলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একই সময়ে ওয়াশিংটনের রিগান ন্যাশনাল বিমানবন্দর থেকে ‘এনভয় এয়ার’ পরিচালিত আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি এমব্রেয়ার ই-১৭০ যাত্রীবাহী বিমানও আকাশে ওড়ে।
সাধারণত প্রেসিডেন্টের আকাশপথ চলাচলের সময় বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ থাকে। তবে সমন্বয়হীনতা ও যোগাযোগের অস্পষ্টতার কারণে দুই উড়োজাহাজের মধ্যকার আনুভূমিক দূরত্ব এক মাইলের নিচে নেমে আসে। ফেডারেল নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী, আকাশে দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে অন্তত ১ দশমিক ৫ মাইল আনুভূমিক অথবা ৫০০ ফুট উল্লম্ব নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেসাই জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো সময়ই সরাসরি ঝুঁকির মুখে ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের অন্যতম দক্ষ বৈমানিকরা মেরিন ওয়ান পরিচালনা করেন এবং পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে এফএএ জানিয়েছে, দুই উড়োজাহাজের দূরত্ব নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে এলেও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল পুরো সময় উভয় বিমানের পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনের একই বিমানবন্দর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বিমান ও সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ৬৭ জন নিহত হওয়ার পর ওই আকাশসীমায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছিল। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর নতুন করে এই নিরাপত্তা বিঘ্নের ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও সর্বশেষ ঘটনায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, তবুও আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তদন্তকারী সংস্থাগুলো কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সূত্র: গালফ বাংলা








