ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২০ জনের প্রাণহানি

প্রকাশ:

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপে শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ১৫ কিলোমিটার গভীরতায় এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। সিকা জেলার প্রধান শহর মাউমেরেতে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও দুজন আটকা পড়ে আছেন বলে জানা গেছে।

মাউমেরে উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাথুর রহমান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের নিকটবর্তী নাগেকেও এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। ভূমিধসের কারণে সড়কপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিকল্প হিসেবে একটি দল ফেরি ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, নাগেকেও এলাকায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন। সেখানে বেশ কিছু ঘরবাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

ভূমিকম্পের পরপরই উপকূলীয় এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামির ঢেউ আঘাত হানে। কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করলেও প্রায় তিন ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কম্পনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ইস্ট নুসা তেনগারা, ওয়েস্ট নুসা তেনগারা এবং দক্ষিণ সুলাওয়েসির বিভিন্ন অংশে তা অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, প্রায় এক মিনিট স্থায়ী এই কম্পনের সময় আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। মাউমেরে বন্দরের একটি ভিডিওতে ভবনের অংশ ধসে পড়ার দৃশ্য এবং মানুষের আর্তনাদ ও ছোটাছুটির চিত্র দেখা গেছে।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূকম্পন সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে। টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূ-তাত্ত্বিক অস্থিরতা দেখা দেয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ জনে দাঁড়িয়েছে।

অনেক বাসিন্দা জানান, প্রায় এক মিনিট ধরে মাটি কেঁপেছে।

আরেকটি দল ফেরিতে করে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

শেয়ার করুন