পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের গ্রেপ্তারের তিন বছর পূর্ণ হলো বুধবার (৫ আগস্ট)। ২০২৩ সালের এই দিনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে দলটির পক্ষ থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক শেখ ওয়াকাস আকরাম জানিয়েছেন, খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশাওয়ারে একটি বড় জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া অন্যান্য প্রদেশেও স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।
শেখ ওয়াকাস আকরাম অভিযোগ করেছেন, বিশেষ করে পাঞ্জাব প্রদেশে পিটিআই নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় ও দমন অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের দল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশ্বাসী এবং কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়াবে না। তিনি গত ৮ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে পিটিআইকে সমর্থন জানানো জনগণকে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ইমরান খানের প্রতি সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি গণতন্ত্র, সংবিধান, আইনের শাসন ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের পক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে নামার ডাক দিয়েছেন।
এদিকে মঙ্গলবার ইমরান খানের বোন এবং তার আইনজীবীরা আদিয়ালা কারাগারে দেখা করার অনুমতি চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। আলিমা খান জানিয়েছেন, তার ভাইয়ের মুক্তির আন্দোলন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পেশাওয়ারের সমাবেশ থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা ঘোষণা করবেন। পিটিআইর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওয়াইস ইউনুস চৌধুরীও জানান, তাদেরও কারাবন্দি নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
পেশাওয়ারের মোটরওয়ের কাছে অনুষ্ঠেয় কেন্দ্রীয় সমাবেশে দলের প্রাদেশিক সভাপতি জুনায়েদ আকবর খান ও মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদিসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। দলের প্রাদেশিক উপ-তথ্য সম্পাদক ইকরাম খাট্টানা জানিয়েছেন, এই সমাবেশ থেকেই মুক্তি আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। অন্যদিকে করাচিতে প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভের পরিকল্পনা থাকলেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে দলটি বাধার আশঙ্কা করছে। করাচি মহানগর পিটিআই সভাপতি রাজা আজহার জানান, সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রাওয়ালপিন্ডির লিয়াকত বাগে জনসভার আবেদন নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের ভাষ্যমতে, ৫ আগস্ট ‘ইয়াওম-ই-ইস্তেহসাল-ই-কাশ্মীর’ পালন উপলক্ষে জেলা গোয়েন্দা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনসভার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে পিটিআই জানিয়েছে, তারা লিয়াকত বাগ ও মুর্রি রোডসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে। দলটির অভিযোগ, রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতিমধ্যে অন্তত নয়জন নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে।
জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের পর পিটিআইর জেলা সভাপতি চৌধুরী আমির আফজাল বলেন, তাদের সামনে রাজপথে নামা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। তিনি লিয়াকত বাগ ও মুর্রি রোডসহ বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: Probash Khabor








