ইরানের বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় বিমান হামলা: কঠোর প্রতিশোধের দাবি সেন্টকমের

প্রকাশ:

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টার কঠোর প্রতিশোধ নিতে ইরানের বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। বার্তাসংস্থা আনাদোলুর তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টা এবং ইরানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টা থেকে এই হামলা শুরু হয়। মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। মিশরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি এলএনজি ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব, কারণ এবার আমাদের পালা। তারা জানে যে এটি আসছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে তেহরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল।

আল জাজিরা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। খুজেস্তান প্রদেশের আবাদানে মার্কিন বাহিনী নির্দিষ্ট কিছু স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া হরমোজগান প্রদেশের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আবু মুসা, কিশ ও কেশম দ্বীপেও একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। তবে হরমোজগান প্রদেশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিক শহরে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

আইআরআইবি আরও জানিয়েছে, ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত বুশেহর প্রদেশেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের আবাসিক এলাকায় তিনটি বিস্ফোরণ হয়েছে এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রেস টিভির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর দক্ষিণ ইরানের আরও কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি সামরিক কর্মকাণ্ডে পুরো অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

শেয়ার করুন