ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলার একটি পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আঞ্চলিক দেশগুলোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সেই হামলার অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মাধ্যমে গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছিল, পেন্টাগন ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক পদক্ষেপ হতে পারত।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের অনুরোধের কারণেই তিনি সংযত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলার অনুমোদন দিলে ইরানের অভ্যন্তরে সম্ভবত হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারত। সামরিক বিকল্পের চেয়ে আপাতত কূটনৈতিক চাপ ও আলোচনার পথকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।
ট্রাম্পের মতে, এখন ইরান সরকারের দায়িত্ব হলো সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করার মতো শর্তগুলোতে তেহরানকে সম্মত হতে হবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পেন্টাগনের তৈরি করা হামলার পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই মন্তব্যের মাধ্যমে আপাতত বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: Daily Amar Desh








