গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ:

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ (Control) করার পরিবর্তে একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর (Regulation) মধ্যে নিয়ে আসা জরুরি। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য, তেমনি একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।

মন্ত্রী গণমাধ্যমকে কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণমাধ্যম স্বীকার করছে যে তাদের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, মালিক ও সরকার পক্ষ যৌথভাবে কাজ করে চলেছে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য গণমাধ্যম শিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও শক্তিশালী হতে হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, সাংবাদিকতা ও এই শিল্প অন্য যেকোনো ক্ষেত্রের চেয়ে ভিন্ন। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের একটি অঘোষিত অথচ অনিবার্য চতুর্থ স্তম্ভ। ফলে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে প্রচলিত গণমাধ্যমের সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হয়ে মিডিয়া ইকোসিস্টেমকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তথ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও গত জাতীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, গণমাধ্যম খাতেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।

টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিইসির সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও জুবায়ের বাবু।

গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বক্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা মনে করেন, একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়।

সেমিনারে উপস্থিত বিশিষ্টজনরা গণমাধ্যমের বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা মনে করেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে গণমাধ্যমকে আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। একইসাথে সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

পরিশেষে, আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে সেমিনারে অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়। কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

শেয়ার করুন