গুমের মতো অপরাধ প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (০৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আইনটির খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানবাধিকার, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
নতুন এই আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে গুমের ফলে ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ উদ্ধার হলে কিংবা নিখোঁজের পাঁচ বছর পরও কোনো তথ্য না পাওয়া গেলে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে আইনটিতে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন এবং পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
আইনটিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সাক্ষী, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, আর তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে।
আইনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিধানের মধ্যে রয়েছে গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান। এছাড়া পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। এই আইনটি গুম প্রতিরোধে দায়ী ব্যক্তিদের বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার সুরক্ষায় একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: Probash Khabor






