তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে কুকুরের মাংস খাওয়ার পরামর্শ উত্তর কোরিয়ার

প্রকাশ:

উত্তর কোরিয়ায় চলমান তীব্র দাবদাহ থেকে নাগরিকদের সুস্থ রাখতে কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ওয়ার্কার্স পার্টির মুখপত্র ‘রোডং সিনমুন’-এ প্রকাশিত এক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে এই বিশেষ খাবারের সুপারিশ করা হয়েছে। হংকং ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ৪ আগস্ট মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পিয়ংইয়ং জেনারেল হাসপাতালের একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোকসহ তাপজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও হাইপারথাইরয়েডিজমের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। শরীর ঠান্ডা রাখতে তরমুজ, শসা ও মুগ ডালের পাশাপাশি ‘ডানগোগি গুক’ বা কুকুরের মাংসের স্যুপ, মাছের পায়েস এবং লাল শিমের পায়েস খাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

উত্তর কোরিয়ায় কুকুরের মাংসের স্যুপ ‘মিষ্টি মাংসের স্যুপ’ হিসেবে পরিচিত এবং এটি গ্রীষ্মকালীন ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে স্বীকৃত। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে এই খাবারের জন্য বিশেষ রেস্তোরাঁ রয়েছে এবং নিয়মিত রন্ধন প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হয়। তবে দেশটির সাবেক কূটনীতিক রি চোল ‘দিস উইক ইন এশিয়া’কে জানিয়েছেন, জনপ্রিয় হলেও সাধারণ মানুষের জন্য এই খাবার বেশ ব্যয়বহুল। মূলত প্রচণ্ড গরমে ক্লান্তি দূর করার পথ্য হিসেবেই এটি ব্যবহৃত হয়।

গত ২৭ জুলাই থেকে উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে একটানা উষ্ণ রাত ও তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে এবং তা ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হেঁটেছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে কুকুর পালন, জবাই ও মাংস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইন পাস হয়েছে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এই আইন কার্যকর হবে, যেখানে অপরাধীদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৩ কোটি ওন জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

২০২৪ সালে এক ঐতিহাসিক আইন পাসের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া কুকুর পালন, জবাই এবং মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

এতে বলা হয়, তীব্র গরমে তাপজনিত অবসাদ (হিট এক্সহস্টশন) ও হিটস্ট্রোকের কারণে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং হাইপারথাইরয়েডিজমের মতো রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

বহু বছর ধরেই দেশটির সরকার এটিকে গ্রীষ্মকালের ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে প্রচার করে আসছে।

দেশের আবহাওয়া দপ্তর ইতোমধ্যে মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে।

শেয়ার করুন