থাইল্যান্ডের স্কুলে নিরাপত্তা ঘটনায়: শিক্ষকসহ সাতজনের প্রাণহানি, হামলাকারী কিশোরের মৃত্যু

প্রকাশ:

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে অবস্থিত ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার কিছু পর এক ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজনই শিক্ষক। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারী ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর শিক্ষার্থী নিজেই নিজের ওপর গুলি চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর স্কুল প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও কর্মীরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি শুরু করেন। জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তদন্তে জানা গেছে, স্কুলে হামলার আগে ওই কিশোর তার নিজের বাড়িতে গিয়ে দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনায় ব্যবহৃত ৯ মিমি পিস্তলটি তার দাদার মালিকানাধীন ছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৩৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। হামলায় আহত অন্তত ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ব্যাংকক থেকে বিবিসির প্রতিবেদক জোনাথন হেড জানিয়েছেন, হামলাকারী মূলত শিক্ষকদের লক্ষ্য করেই এই তাণ্ডব চালিয়েছিল এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গুলিবর্ষণ অব্যাহত ছিল।

নিহত এক শিক্ষিকার প্রেমিক সাংবাদিকদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, এমন মর্মান্তিক ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলটি ব্যাংককের উত্তরে একটি জনবহুল এলাকায় অবস্থিত এবং এটি দেশটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত পরিচিত এই স্কুলের ঘটনাটি পুরো কমিউনিটির ওপর গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। তবে ঠিক কী কারণে ওই কিশোর এমন ভয়াবহ পথ বেছে নিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

থাইল্যান্ডে এ বছর এটি দ্বিতীয় স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনা। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এক ১৮ বছর বয়সী বন্দুকধারীর হামলায় স্কুলের অধ্যক্ষ ও এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০২২ সালের অক্টোবরে নং বুয়া লামফু প্রদেশে এক ব্যক্তি ৩৭ জনকে হত্যা করেছিলেন, যার অধিকাংশই ছিল প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু। একের পর এক এমন ঘটনায় দেশটিতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত অস্ত্রের মালিকানার হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। দেশটিতে অস্ত্র রাখার ক্ষেত্রে আইনি বিধিনিষেধ থাকলেও বৈধ ও অবৈধ উভয় পথেই অস্ত্র সংগ্রহ করা সহজ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বারবার এমন বন্দুক হামলার পরও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। এই ঘটনার পর দেশটিতে অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার দাবি জোরালো হয়েছে।

এ ঘটনায় কমপক্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন।

সন্দেহভাজন বন্দুকধারী ১৪ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীও মারা গেছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনি ওই কিশোরকে একজন শিক্ষককে গুলি করতে দেখেছেন।

গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থী ও স্কুলের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়ে পালাতে দেখা যায়।

এই এলাকার অনেক বাসিন্দা প্রতিদিন রাজধানীতে যাতায়াত করেন।

এরও আগে ২০২২ সালের অক্টোবরে পূর্বাঞ্চলীয় নং বুয়া লামফু প্রদেশে ৩৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ৩৭ জনকে হত্যা করেন।

তবে বন্দুক-সংক্রান্ত অপরাধ কমাতে কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

শেয়ার করুন