নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড ও ঝটিকা মিছিল কঠোর হাতে দমনের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অরাজকতা ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য দেয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। কোনো এলাকায় নিষিদ্ধ দলের মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ হলে দায়ভার সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ঊর্ধ্বতনদের বহন করতে হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
এই কঠোর নির্দেশনার অংশ হিসেবে গুলশানে ঝটিকা মিছিলের ঘটনার পাঁচ দিন পর গুলশান মডেল থানার ওসি মো. দাউদ হোসেনকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদকে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা অফিস আদেশে তাদের এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার গুলশানে মিছিলকারী নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার ও পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, গুলশানের মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও জুমার নামাজে অংশ নেওয়ার ছদ্মবেশে তারা জড়ো হওয়ায় তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সময় গাজীপুরের পূবাইল এবং চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা মোকাবিলায় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের পুলিশের সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি’র সাম্প্রতিক একাধিক বৈঠকে অরাজকতা রোধে প্রিভেন্টিভ মেজার বা আগাম প্রতিরোধমূলক কৌশলের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। সনাতন ধারার পরিবর্তে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে ব্লক রেইড, স্পটভিত্তিক নিরাপত্তা এবং আবাসিক হোটেলের অতিথি তালিকা সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এছাড়া যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র রুখতে সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের (আইএডি) গোয়েন্দারা তথ্য সংগ্রহ করছেন। মিছিলের স্থান ও নেতৃত্বদানকারীদের চিহ্নিত করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের কঠোর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেবল মিছিলকারীদের গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ আগে থেকে কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল তা মূল্যায়ন করা হবে। তবে এই অভিযানে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই ভোগান্তির শিকার না হয়, সে বিষয়ে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ঢাকা ছাড়াও গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও চট্টগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে যাতে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশি দুর্বলতায় তৎপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল, ওসি ক্লোজড। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে এই নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াও শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগাম তথ্যের ঘাটতি ও পুলিশি দুর্বলতার কারণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বিভিন্ন তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরাসরি ও অনলাইনে গোপন বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকার বাহিরেও বেশ কিছু মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে গুলশানের বড় মিছিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো চাপে রয়েছে।
সূত্র: মানবজমিন








