বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন ইংলিশ কোচ জেরার্ড জোনস। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে থাকাকালীন তিনি সাইবার আক্রমণ ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছিলেন। তবে তার এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ফেডারেশনের ভাষ্যমতে, নিজের অপেশাদার আচরণ ও চুক্তির শর্ত ভঙ্গের দায় এড়াতেই জোনস এখন এমন কাল্পনিক অভিযোগ তুলছেন।
বাফুফে সূত্রে জানা যায়, একজন পেশাদার কোচ হিসেবে যে ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখার কথা ছিল, জোনস তার ধারেকাছেও ছিলেন না। গত জুনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। গত ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ এবং ৩ সেপ্টেম্বর সিরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। টুর্নামেন্টের বাকি সময়ে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন।
জেরার্ড জোনসের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা বেশ দীর্ঘ। গত ১০ আগস্ট তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, বাফুফে তাকে বেতন দিচ্ছে না এবং তার পরিবার সংকটে রয়েছে। অথচ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান ছিল। কোনো আলোচনা ছাড়াই তিনি প্রকাশ্যে ফেডারেশনকে হেয় করার পথ বেছে নেন, যা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া মতিঝিলের ইউসিবি ব্যাংকে গিয়ে বেতন না পেয়ে ব্যাংকের ম্যানেজারের সঙ্গে উগ্র আচরণ এবং হোটেলে অহেতুক পুলিশ ডাকার মতো ঘটনা ঘটিয়ে তিনি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন।
দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও জোনস বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। গত ১৯ আগস্ট এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে যাওয়ার আগে টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশ ডাকেন এই ব্রিটিশ কোচ। এছাড়া এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের আগে কোচ ও অধিনায়ককে ছাড়াই সংবাদ সম্মেলন করতে হয়েছিল বাফুফেকে, কারণ জোনস সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সহকারী কোচকে দলের সঙ্গে কাজ করতে বাধা দেওয়া এবং এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাও তার মধ্যে দেখা গেছে।
নিজের বরখাস্ত হওয়া প্রসঙ্গে জোনস দাবি করেছেন, মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফলে তার দুই দশকের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন হতে পারে না। তিনি বলেন, ফুটবলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা করা ন্যায্য হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ ও প্রাণনাশের হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে বাফুফে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে, যদি সত্যিই তিনি হুমকির শিকার হতেন, তবে ফেসবুকে না লিখে কেন আইনি ব্যবস্থা নিলেন না? ফেডারেশনের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজসহ সব প্রমাণ তাদের কাছে আছে, যা জোনসের অভিযোগের অসারতা প্রমাণ করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আর চরম অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে নিজের বিদায়ঘণ্টা নিজেই বাজালেন এই বিদেশি কোচ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একের পর এক নাটকীয় ঘটনা, শৃঙ্খলা ভঙ্গ আর দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে জোনসকে টুর্নামেন্টের মাঝপথে বরখাস্ত করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বাফুফে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক ঝামেলা পাকান এই ‘ক্র্যাক’ কোচ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেননা, সিসিক্যামেরার ফুটেজসহ অনেক কিছুই রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেকোনো পেশাদার সংস্থায় আর্থিক কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিলে সেটি সমাধানের একটা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাফুফের পক্ষ থেকে তার পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। চাকরির আরও তথ্য: ছুটির দিন থাকায় বেতনের টাকা তুলতে না পেরে ব্যাংকের ম্যানেজারের দিকে তেড়ে যান এই কোচ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যার ফলশ্রুতিতে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশের।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








