রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি বাংলাদেশে পুনরায় গুম-খুনের রাজনীতি কায়েম করতে চায়। শনিবার দুপুর ১টায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পার্লামেন্টে ১৩৩টি অধ্যাদেশ আনলেও তার মধ্যে ২০টি বাতিল করা হয়েছে, যার একটি ছিল ‘গুম-খুন কমিশন’। তিনি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম বর্তমান আইনি কাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, আগে গুম-খুনের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু এখন পুলিশ নিজেই অভিযুক্ত হওয়ার পরও তদন্তের দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে অভিযোগকারীর পাঁচ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রাখা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ থেকে নিরুৎসাহিত করবে। তিনি একে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তির প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে হুইপ বলেন, বাংলাদেশ ২০ কোটি মানুষের দেশ এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের সম্পত্তি নয়। বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনকে ধ্বংস করার যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারও কিছু ক্ষেত্রে দলীয়করণের পথে হাঁটছে, যা উদ্বেগের কারণ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ এবং বিভিন্ন সরকারি করপোরেশনে দলীয় লোক বসানোর বিষয়টি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনের দাবি জানান। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পায়, বাকি ৭০ শতাংশকে বাইরে থাকতে হয়। প্রশাসনের প্রতি তার আহ্বান, শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে আগামী দুই বছরের মধ্যে শতভাগ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। গত ১৬ বছরের টর্চার সেল, গেস্টরুম সংস্কৃতি ও চাঁদাবাজির অবসান ঘটিয়ে শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন। বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৎ, যোগ্য ও চরিত্রবান মানুষ গড়ার লক্ষ্যে ছাত্রশিবিরের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাসের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণ করবে এ দেশের ২০ কোটি মানুষ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ৫ আগস্টের গণবিপ্লবের মধ্য দিয়ে সেটির পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যারা গণভোটের রায় মানে না, তারা দেশের জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এগুলো করার উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে আবারও স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে যদি কেউ ব্যত্যয় ঘটাতে চায় বা অন্য কোনো চিন্তা করে, তবে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করেছে, একইভাবে তাদেরও বিতাড়িত করবে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








