কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভির হোসেনের দ্রুত প্রত্যাহার দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মনির। তিনি নিজের ফেসবুক পেজে এই দাবি জানিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসাদুজ্জামান মনির বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড নিয়ে অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করা এক ব্যক্তি কীভাবে পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই নিয়োগ পেলেন, তা বোধগম্য নয়। এছাড়া ষোলনল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা ওমর ফারুককে গণনাকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি সামনে এনেছেন। তিনি অবিলম্বে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদন্ত এবং ইউএনও’র অপসারণ দাবি করেছেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন এই বিএনপি নেতা।
এদিকে, নিয়োগের ফলাফলে দেখা গেছে, সুপারভাইজার পদে মাহমুদুল হাসান নিলয়কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি বাকশিমুল ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। এই নিয়োগ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিএনপি নেতা আজাদ খান মন্তব্য করেছেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসীমউদ্দীনের কাছে তিনি বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, ১৫ দিন আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, বর্তমান ইউএনও দায়িত্বে থাকলে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। তার এই দাবির সঙ্গে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ারও একমত পোষণ করেছেন বলে জানা গেছে।
নিয়োগে অনিয়মের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তিনি সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সূত্র: Daily Amar Desh








