সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রথমবারের মতো মাল্টিমিডিয়াকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের মন্ত্রিত্ব ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন। মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আশরাফুল ইসলামের নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন যে, মন্ত্রিত্ব বা সরকার কোনোটিই স্থায়ী নয়। তিনি বলেন, মন্ত্রিত্ব আসে এবং যায়, এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই পরিবর্তনকে উপভোগ করেন এবং নিজের কাজের মাধ্যমেই তৃপ্তি খুঁজে নিতে পছন্দ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন মহলে তার মন্ত্রিত্ব হারানোর গুঞ্জন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ এসব ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে মজা পায়। তাদের সেই চর্চাকে তিনি গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তিনি জানান, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে অভ্যস্ত। প্রায় ৩৪ বছর ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকা শেখ রবিউল আলম বলেন, ধানমন্ডির মতো গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন এবং দলের সরকারপ্রধান তার যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন।
নিজের কাজের মূল্যায়ন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনি তার জ্ঞান ও যোগ্যতার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন। যদি তিনি সরকার বা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হন, তবে সরকার তা বিবেচনা করবে—এটিই স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি ভিত্তিহীন প্রচার চালিয়ে হয়তো তৃপ্তি পায়, তবে তিনি এসবের চেয়ে নিজের কাজের প্রতি বেশি মনোযোগী। তিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথের মর্যাদা রক্ষায় সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান।
সাক্ষাৎকারে শেখ রবিউল আলম দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তার ওপর আস্থা রাখার জন্য তিনি দলের কাছে ঋণী। একই সঙ্গে এলাকার জনগণের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান, যারা তাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, জনগণের দেওয়া সেই দায়িত্বের অমর্যাদা তিনি অতীতে করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। সবশেষে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে, সরকার ও মন্ত্রিত্বের পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা তিনি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেন।
মন্ত্রিত্ব থাকছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার কখনো স্থায়ী নয়, মন্ত্রিত্বও কখনো স্থায়ী নয়।
আমার দল ও দলের সরকারপ্রধান মনে করেছেন, আমি এখানে কাজ করার জন্য উপযুক্ত।
তিনি বলেন, একটি শ্রেণির মানুষ আছে, যাদের প্রচারের কোনো ভিত্তি নেই।
অর্থাৎ এটা থাকে, যায়, আবার আসে, আবার যায়।
আমি আমার কাজের মধ্যেই তৃপ্তি খুঁজতে চাই।
আমি আমার এলাকার জনগণ এবং রাষ্ট্রের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছি, প্রথমবারই মন্ত্রিসভায় এসেছি।
সূত্র: যুগান্তর








