মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের করা আপিল শুনানি ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার এই আদেশ দেন।
আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী ও আইনজীবী মীর ওসমান বিন নাসিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর জানান, আপিলকারী পক্ষ থেকে মামলার বৃত্তান্তসংবলিত পেপারবুক বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করা হয়নি। এই ঘাটতির কারণে রাষ্ট্রপক্ষ সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আবুল কালাম আযাদ গত ৬ জুলাই এই আপিল দায়ের করেন। এতে তিনি ১৩ বছর আগে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ৯১৫ দিন বিলম্ব মার্জনার আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার প্রার্থনা জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আযাদের সাজা বর্তমানে এক বছরের জন্য স্থগিত রয়েছে, যার মেয়াদ অক্টোবর মাসে শেষ হবে। তাই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এই রুকনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার ভিত্তিতে ওই রায় দেওয়া হয়েছিল। রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গত বছরের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করে। আত্মসমর্পণের দিন ট্রাইব্যুনাল তাঁকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং আপিল বিভাগের আদেশ না আসা পর্যন্ত তাঁকে বর্তমান অবস্থায় রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার পর এটিই ছিল প্রথম রায়।
এতে ৪ হাজার ৯১৫ দিন বিলম্ব মার্জনা (আপিল করতে দেরি হওয়ার জন্য মার্জনা) চাওয়া হয়েছে।
এই আবেদনের ওপর ১৭ আগস্ট শুনানি হতে পারে।’
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেয়।
আবুল কালাম আযাদের করা আপিলটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হয়ে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে।
সেদিন শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে আসামিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি সরবরাহ করা ও যতক্ষণ না আপিল বিভাগ যথাযথ আদেশ দেন, ততক্ষণ আবুল কালাম আযাদ যেমন আছেন, তেমনই থাকবেন বলে উল্লেখ করেন।
সূত্র: প্রথম আলো







