যুক্তরাজ্যের ক্যাসল হাওয়ার্ড এস্টেটে ফিরছে বিরল হোয়াইট পার্ক গরু

প্রকাশ:

যুক্তরাজ্যের নর্থ ইয়র্কশায়ারের মালটনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক ক্যাসল হাওয়ার্ড এস্টেটে চলছে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাওয়ার্ড পরিবারের মালিকানাধীন এই প্রাসাদ ও এর বিশাল প্রাঙ্গণে বর্তমানে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ৩০ বছর মেয়াদি একটি সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে সম্প্রতি সেখানে আনা হয়েছে বিরল প্রজাতির হোয়াইট পার্ক জাতের কিছু গরু। ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে প্রাচীন স্থানীয় জাত হিসেবে পরিচিত এই গরুগুলোকে রেয়ার ব্রিডস সারভাইভাল ট্রাস্ট তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে।

বগ হল রিওয়াইল্ডিং প্রকল্পের আওতায় নতুন করে তৈরি তৃণভূমিতে গরুগুলো চরে বেড়াবে। এস্টেট কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগটি বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য একটি বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক আবাসস্থল গড়ে তুলবে। ক্যাসল হাওয়ার্ডের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিভাগের প্রধান গাই থ্যালন জানিয়েছেন, এলাকায় প্রাণীদের ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টা সংশ্লিষ্ট দলসহ অন্যদেরও দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। হোয়াইট পার্ক গরুগুলো সারা বছরই মাঠে থাকবে এবং ভেজা তৃণভূমিসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার কারণেই মূলত এই জাতটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রকৃতি পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট ব্যাংকের অংশীদারত্বে ২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ৪৪০ একর কৃষিজমিতে বন্য প্রাণীর জন্য সমৃদ্ধ আবাসস্থল তৈরি করা। প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ হিসেবে শরৎকালে সেখানে বিভার বা বড় আকারের জলজ ইঁদুরজাতীয় প্রাণী ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে প্রায় ৩ মাইল বা ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্য প্রাণীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য বিশেষ সুড়ঙ্গ এবং ভোঁদড় চলাচলের পথও নির্মাণ করা হয়েছে।

সংরক্ষণকাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকেরা বর্তমানে পুকুর খনন ও উইলোগাছ লাগানোর কাজ করছেন। এর আগে তারা তৃণভূমি পুনরুদ্ধার, চারাগাছ রক্ষায় ঝোপঝাড়ের বেড়া তৈরি এবং পানি ধরে রাখার জন্য বাঁধ নির্মাণের মতো কাজ সম্পন্ন করেছেন। গাই থ্যালন আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরগুলোতে এই প্রাণীদের উপস্থিতির ফলে স্থানীয় প্রকৃতিতে ইতিবাচক ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে নিক হাওয়ার্ড ও তাঁর স্ত্রী ভিক্টোরিয়া হাওয়ার্ডের পরিচালনায় থাকা এই এস্টেটটি এখন পরিবেশ সংরক্ষণের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হোয়াইট পার্ক জাতের এসব গরুকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন গরুর জাতগুলোর একটি বলে মনে করা হয়।

শেয়ার করুন