বিদ্যুৎ লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সব পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই গ্যাস সংকটের সমাধান হবে এবং এর ফলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে। শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া-মোনাজাত ও অসহায়দের মাঝে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী।
সরকারপ্রধান বিরোধী দলের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, যদি তারা তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুতের কোনো কার্যকর সমাধান দিতে পারে, তবে সরকার তা সাদরে গ্রহণ করবে। তিনি বিরোধী দলের প্রতি বিভ্রান্তিকর ও হঠকারী রাজনীতি পরিহার করে জনগণের উপকারে আসে এমন পরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, যারা সমালোচনার জন্য সমালোচনায় ব্যস্ত, তারা যেন মাঠে নেমে মানুষের জন্য কাজ করেন। ঢাকা-১৭ আসনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এখানকার লেক পরিষ্কারের মতো কাজগুলো সহজ নয়, অথচ সমালোচনা করা সহজ।
‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ সমালোচনাকারীদের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ফ্যানের নিচে বসে হাতে হারিকেন নিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবি তুলছেন, তাদের বন্ধুরাই ক্ষমতায় থাকাকালীন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। সরকার বর্তমানে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে, যার জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। এই সংকট নিরসনে চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে টিকে ছিল। যারা আজ বড় গলায় মিথ্যাচার করছে, গত ১৭ বছর তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ’৭১, ’৮৬ ও ’৯৬ সালের মতো ২০২৬ সালেও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি তাদের উসকানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সংসদে বা জনগণের সামনে গঠনমূলক পরিকল্পনা তুলে ধরার আহ্বান জানান, যা সরকার বাস্তবায়নে কাজ করবে।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা-১৭ আসনে আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন।
যারা আজ বড় গলায় কথা বলছে এবং মিথ্যাচার করছে, গত ১৭ বছর মানুষ তাদের রাজপথে দেখতে পায়নি।
তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ’৭১ সালে ভুল করেছে, ৮৬ সালে ভুল করেছে, ৯৬ সালে ভুল করেছে, আবার ২০২৬ সালেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
জনগণের উপকার হবে সে রকম পরিকল্পনা থাকলে উপস্থাপন করুন।
রাস্তায় বসে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ।
পাশের লেকটি পরিষ্কার করতে ছয় মাস সময় লাগে।
মানুষ ও দেশের জন্য কাজ করুন; সঠিক কথা বলুন।
দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এমন কথা থেকে বিরত থাকুন।
দেশের বড় পত্রিকাগুলোর পাতায় চোখ বুলালেই দেখা যাবে, কীভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম, হত্যাসহ পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল।
আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করব।
সূত্র: যুগান্তর








