সাতক্ষীরার দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলার মাছের ঘেরগুলোতে এখন এক নতুন কর্মযজ্ঞ চোখে পড়ছে। ঘেরের ভেতর থেকে বাড়তি শেওলা সংগ্রহ করে তা অন্য ঘেরের মালিকদের কাছে মাছের খাবার হিসেবে বিক্রি করছেন স্থানীয় শ্রমিকেরা। পানির ওপর থার্মোকলের টুকরা ও নীল জাল দিয়ে তৈরি ছোট ভেলা ভাসিয়ে শ্রমিকেরা কোমরপানিতে নেমে এই শেওলা সংগ্রহ করেন। স্থানীয়ভাবে এই শেওলা ‘কাটা শেলা’ নামে পরিচিত।
শশাডাঙ্গা গ্রামের ঘের শ্রমিক রাজকুমার গাইন জানান, ঘেরে শেওলার আধিক্য মাছের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। তাই ঘের পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি এই শেওলা বিক্রি করে তিনি বাড়তি আয় করছেন। সাধারণত এক ভ্যান শেওলা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। খলিলুর রহমান নামের আরেক স্থানীয় ঘের মালিক জানান, তার ঘের থেকে সংগৃহীত এক ভ্যান শেওলা তিনি ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। মূলত নোনাপানির ঘেরে শেওলা বেশি জন্মায়, যা পরে মিষ্টিপানির সাদা মাছের ঘেরে খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এই শেওলা কিনে নেওয়া স্থানীয় ঘের মালিক আমিনুর রহমান জানান, তার ১২ বিঘার ঘেরে বর্ষা মৌসুমে রুই, গ্রাস কার্প ও মৃগেলসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করা হয়। সাদা মাছের খাবারের চাহিদা মেটাতে তিনি নিয়মিত এই শেওলা ব্যবহার করেন। শেওলা সংগ্রহ ও বিক্রির এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে আবু সাঈদের মতো অনেক শ্রমিক দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। তিনি জানান, বছরের পাঁচ থেকে ছয় মাস এই কাজ চললেও শীতকালে শেওলার পরিমাণ কমে যাওয়ায় তখন তাদের দিনমজুরির কাজ করতে হয়।
তবে চিংড়ি চাষিদের জন্য এই শেওলা অনেক সময় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেবহাটার ব্যবসায়ী অজিয়ার রহমান জানান, তার ১৫ বিঘা জমির চিংড়ি ঘেরে শেওলা বেশি হলে পোনার চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। তাই ঘেরের পরিবেশ ঠিক রাখতে অতিরিক্ত শেওলা অপসারণ করা জরুরি হয়ে পড়ে।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম এ বিষয়ে জানান, চিংড়ি ঘেরে অতিরিক্ত শেওলা সূর্যের আলো প্রবেশে বাধা দেয়, যা প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই ঘের পরিষ্কার রাখা চিংড়ি চাষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই শেওলা অন্য মাছের ঘেরে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা গেলে তা একদিকে যেমন ঘের পরিষ্কার রাখে, অন্যদিকে মাছের খাদ্যের জোগান দিয়ে অর্থনৈতিক সাশ্রয়ও নিশ্চিত করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নীল জালের ভেতর থার্মোকলের (হালকা, সাদা ফোমজাতীয় পদার্থ) টুকরা দিয়ে বানানো সেই ভেলার ওপর স্তূপ হয়ে আছে কাদামাখা সবুজ শেওলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোমরপানিতে নেমে এক শ্রমিক ভেলাটি টেনে নিচ্ছেন, আরেকজন পানি থেকে শেওলা তুলে রাখছেন তাতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটু দূরে একই কাজে ব্যস্ত আরও কয়েকজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দূর থেকে মনে হতে পারে, মাছের ঘের পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাছে গেলে বোঝা যায়, সেখানে চলছে অন্য রকম এক জীবিকার আয়োজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের শশাডাঙ্গা গ্রামে এমন দৃশ্য দেখা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘেরের মাঝখান দিয়ে সরু পাড়, পাড় ঘেঁষে গ্রামের সড়ক।
সূত্র: প্রথম আলো








