ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তরুণ প্রজন্মের ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তান বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। দেশটির পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু খর্বকায় হয়ে বেড়ে উঠছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পথে বড় বাধা। কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই এই শিশুরা পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব, বারবার সংক্রমণ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শিশুদের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। জাতীয় বাজেটে অর্থসংকট দেখা দিলে শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়, যা সাময়িক মনে হলেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। শৈশবে বিকাশের এই ক্ষতি প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও থেকে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের ওপরও এর কুপ্রভাব পড়ে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রতি এক লাখ জীবিত শিশুর জন্মে মাতৃমৃত্যুর হার ১৫৫ জন। অপুষ্টির কারণে দেশটির অর্থনীতিতে বছরে ১৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় ‘অ্যাক্ট ফর নিউট্রিশন’ নামে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবিক সহায়তা খাতের নেতৃবৃন্দ, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এবং পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
সম্মেলনে দারিদ্র্য, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর খাদ্যাভ্যাস, সরকারি ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন, জলবায়ু ঝুঁকি এবং দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। মা ও শিশুদের অপুষ্টির মতো উপেক্ষিত সংকটগুলো দূর করে কীভাবে একটি ভিন্ন ভবিষ্যতের পথ তৈরি করা যায়, তা নিয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাকিস্তান এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত রাখা বা নতুন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে।
সূত্র: মানবজমিন








