দুদকের অনুসন্ধান রাজনৈতিক হয়রানি, অভিযোগের ভিত্তি নেই: আসিফ মাহমুদ

প্রকাশ:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অভিযোগ করেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘অভিযোগ বনাম বাস্তবতা: এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদকে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রকৃত তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কেবল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচারই নয়, বরং এর কোনো আইনি ভিত্তিও নেই।

আসিফ মাহমুদ জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি দায়িত্ব ছাড়ার অনেক পরের ঘটনাকে তাঁর সঙ্গে জড়ানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি অভিযোগে ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পছন্দের স্থানে পদায়নের বিনিময়ে প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অথচ এই অভিযোগটি করা হয় ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল, যেখানে পদোন্নতির আদেশ হয়েছিল ১১ মে। তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। আসিফ মাহমুদের প্রশ্ন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হওয়া পদোন্নতির দায় কেন তাঁর ওপর চাপানো হচ্ছে এবং তিনি কীভাবে টাকা নিতে পারেন?

যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের চলতি দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি নিয়েও তিনি ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, একটি অভিযোগে ৩৮ জনের চলতি দায়িত্ব বাতিল করে অর্থ নেওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে ১১২ জনের দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর এই কর্মকর্তাদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা পরে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর বাতিল করে মন্ত্রণালয়। এটি ছিল আদালতের রায় বাস্তবায়নের একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তৎকালীন দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এড়িয়ে কেন তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে, তা স্পষ্টতই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

দুদকের মুখপাত্রের ভূমিকা নিয়েও আসিফ মাহমুদ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দুদকের পক্ষ থেকে প্রথমে গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার খবর প্রচার করা হয়। পরে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভুলবশত এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তা ব্যবহার না করার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে সংশোধন বা প্রত্যাহার না করায় তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এই ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও হয়রানির বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলেও জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। আসিফ মাহমুদ শুরুতে শ্রম এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেন এবং একই বছরের শেষ দিকে এনসিপিতে যোগ দিয়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর মতে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে গঠিত দুদক এখন রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাঁকে ভয় দেখাতেই এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তথ্যসহ ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করলে এর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা, দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বাস্তবতা প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযোগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা যাচাই করতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, সিদ্ধান্তের তারিখ ও দায়িত্বে থাকার সময়কাল বিবেচনা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তখন থেকে তিনি এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।

শেয়ার করুন