কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গৃহবধূ ফুলতি খাতুন (৩০) এবং তার ১২ বছর বয়সী ছেলে ফরিদ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা ফুল মিয়া। সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে রৌমারী থানায় এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে ফুলতির স্বামী মমিনুল ইসলামসহ মোট সাতজনকে দায়ী করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন মমিনুলের মা আয়শা বেগম, দুই ভাই মুনজু মিয়া ও আমিন, ময়জাল হক, বোন মনোয়ারা বেগম এবং আত্মীয় ইছাহক আলী। বর্তমানে অভিযুক্ত মমিনুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে রৌমারীর পূর্ব ইছাকুড়ি গ্রামের ফুল মিয়ার মেয়ে ফুলতি খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার মৃত আইজল মিয়ার ছেলে মমিনুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মমিনুল প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। মেয়ের সংসারে শান্তি ফেরাতে ফুল মিয়া বিভিন্ন সময়ে জামাইকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি প্রদান করেছিলেন। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় মাস আগে রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আর নির্যাতন না করার শর্তে মমিনুল স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামাও দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে ফুলতি ও মমিনুল আশুলিয়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ নিয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। তবে সেখানেও নির্যাতনের অভিযোগ রয়ে গেছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে আশুলিয়ার জিরানী বাজারের পুকুরপাড় এলাকার আবুল কালামের কলোনি থেকে মমিনুল তার শ্বশুরকে মুঠোফোনে জানান যে, ফুলতি ও তার ছেলে ফরিদ বাসা থেকে পালিয়ে গেছে। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফুল মিয়া ও তার স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে সন্ধান চালিয়েও কোনো হদিস পাননি।
ফুল মিয়ার ভাষ্যমতে, মেয়ের খোঁজে জামাইয়ের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বরং উল্টো হুমকি প্রদান করেন। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে ফুলতি ও ফরিদকে বাবার বাড়িতে লুকিয়ে রাখার ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়। ফুল মিয়ার শঙ্কা, তার মেয়ে ও নাতিকে পরিকল্পিতভাবে নিখোঁজ বা অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন তারা নিখোঁজ মা ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। নিখোঁজ গৃহবধূ ও তার ছেলেকে উদ্ধারের জন্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের ১২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযোগে বলা হয়, এনিয়ে একাধিকবার সালিশ ও পারিবারিক বৈঠক হলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপরও তাদের দাম্পত্য কলহের অবসান হয়নি।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








