রাশিয়ার আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন হালিমা ইয়াসমিন

প্রকাশ:

রাশিয়ার ইয়াকেতিনবার্গ শহরে আয়োজিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ যুব সম্মেলন ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’। এই মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনে বাংলাদেশের যুব প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন হালিমা ইয়াসমিন মুক্তা। বর্তমানে তিনি লিথুয়ানিয়ার কনাস শহরে অবস্থিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘লিথুয়ানিয়ান স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি’-তে ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে মাস্টার্স করছেন। রাশিয়ার কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক সংস্থা ‘রজমলোদেজ’ এবং ‘ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তর’ গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বের ১৯১টি দেশের তরুণদের কাছ থেকে আবেদনের আহ্বান জানায়। কঠোর বাছাইপর্ব শেষে হালিমা ‘ফুল ফান্ডেড পার্টিসিপেন্ট’ হিসেবে মনোনীত হয়েছেন, যার ফলে তার যাতায়াত ও আবাসনসহ যাবতীয় ব্যয়ভার আয়োজক কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

আয়োজক কর্তৃপক্ষ সৃজনশীল শিল্প, জনপ্রশাসন, বিজ্ঞান, শিক্ষা, খেলাধুলা, উদ্যোক্তা, মিডিয়া-ডিজিটালাইজেশন ও আইটি এবং সামাজিক খাতের মতো বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে আবেদন গ্রহণ করেছে। হালিমা ইয়াসমিন মূলত ‘সৃজনশীল শিল্প’ এবং ‘মিডিয়া-ডিজিটালাইজেশন ও আইটি’—এই দুটি বিভাগে আবেদন করেছিলেন। তার উদ্ভাবনী চিন্তা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই তিনি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশ নিতে পারা তার জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিয়েছে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হালিমা ইয়াসমিন বলেন, ফেব্রুয়ারিতে আবেদনের পর তিনি বিষয়টি নিয়ে খুব একটা ভাবেননি। তবে ফুল ফান্ডেড প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার খবরটি তার জন্য ছিল অভাবনীয়। তিনি বলেন, এত বড় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত গর্বের বিষয়। দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারার অনুভূতি সত্যিই দারুণ। হালিমা আরও জানান, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে যে প্রতিভা, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা রয়েছে, তা এই আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে সার্থকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সাথে মেলবন্ধন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সফল পেশাজীবী ও মেন্টরদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে বড় ভূমিকা রাখবে। পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে নিজের একটি স্টার্টআপ গড়ার স্বপ্ন দেখেন হালিমা, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও মেন্টরদের পরামর্শ কাজে লাগাতে চান।

আগামী ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ১০ হাজার যুব প্রতিনিধি সমবেত হবেন। এর মধ্যে পাঁচ হাজার প্রতিনিধি থাকবেন রাশিয়া ব্যতীত বিশ্বের ১৯১টি দেশ থেকে আগত। এই উৎসবটি মূলত তরুণদের জন্য একটি মিলনমেলা, যেখানে তারা নিজেদের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিনিয়োগকারী খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞ গবেষক ও পেশাজীবীদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। আয়োজক সংস্থা জানিয়েছে, বাছাইপ্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া প্রতিনিধিদের সব খরচ বহন করা হবে এবং অন্যদের জন্য আংশিক খরচের সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারী বিদেশি নাগরিকদের জন্য রাশিয়া ভ্রমণের ভিসা ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে।

ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তরের প্রেস টিম জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে এবার মোট ৯০ জন প্রতিনিধি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে বর্তমানে প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় চূড়ান্তভাবে কতজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন, তা এখনই নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও হালিমা ইয়াসমিনের এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণ সমাজের জন্য একটি অনুপ্রেরণা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উচ্ছ্বসিত হালিমা ইয়াসমিন বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে আবেদনের পর ফেস্টিভ্যালের কথা একরকম ভুলেই গিয়েছিলাম।

বিশেষ করে এটা ভেবে খুবই গর্ব হচ্ছে যে এত বড় একটি প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে পারব।

এ ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণকারী সব বিদেশি নাগরিকের জন্য রাশিয়া ভ্রমণে প্রয়োজনীয় ভিসার ফি–ও মওকুফ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন