রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত জুলাই অভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। প্রদর্শনী চলাকালে সন্ধ্যায় ছাত্রদলের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে স্টল ভাঙচুর করে। এতে সাবেক কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক ও সাবেক শাখা সভাপতি সোহেল রানাসহ ছাত্রশিবিরের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, গত ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে প্রভোস্টের উপস্থিতিতে ছাত্রশিবির ও হল সংসদের নেতাকর্মীদের ওপর যে হামলা হয়েছিল, এটি সেই একই সহিংস রাজনীতির ধারাবাহিকতা।
ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেন, ক্ষমতার দম্ভে ছাত্রদল বর্তমানে ফ্যাসিবাদী আচরণের পথ বেছে নিয়েছে। তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিয়ে ছাত্রদল একই সংঘাতমুখী ধারায় ফিরেছে। যখন ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে মনোযোগী, তখন ছাত্রদল ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করে একক আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, নিজস্ব শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচির অভাব থাকায় ছাত্রদল নির্যাতন ও ভয়ভীতির মাধ্যমে আলোচনায় থাকতে চায়। অতীতে বুয়েটে শিক্ষার্থী সনি হত্যাকাণ্ড, নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি এবং সাম্প্রতিক সময়ে তেজগাঁওয়ে কলেজ শিক্ষার্থী হত্যার মতো ঘটনাগুলো তাদের সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রমাণ। বিবৃতিতে এই ন্যাক্কারজনক হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সূত্র: Daily Amar Desh








