বাংলাদেশের বাজারে নিজেদের খুচরা বা রিটেইল ব্যাংকিং এবং ক্রেডিট কার্ড ব্যবসার কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। ১৭৩ বছরের পুরোনো এই ব্যাংকের স্থানীয় ব্যবসা অধিগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই ব্যাংক—ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এই দুই ব্যাংকের সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের প্রাথমিক আলোচনা ও সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উদ্যোগটি সম্পর্কে অবগত থাকা ব্যাংকিং খাতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড তাদের রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা থেকে সরে আসার আগ্রহের কথা জানায়। বিষয়টি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করেছেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের প্রধান কার্যালয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি নয়।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যাংকিংয়ের অধীনে রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার আমানত এবং ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ। ব্যাংকটির সেবার তালিকায় রয়েছে স্মার্ট ও চলতি হিসাব, স্থায়ী ও বৈদেশিক মুদ্রা আমানত, প্রিমিয়াম ও রিওয়ার্ডভিত্তিক ক্রেডিট কার্ড, পার্সোনাল লোন, অটো লোন ও হোম লোনের মতো নানা সুবিধা। এ ছাড়া সুদবিহীন ‘স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সাদিক’ ইসলামিক ব্যাংকিং ও প্রবাসীদের জন্য ‘স্বদেশী ব্যাংকিং’ সুবিধাও তাদের পোর্টফোলিওতে অন্তর্ভুক্ত।
এই ব্যবসা কেনায় আগ্রহী ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যক্তি আমানত ৫৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যেখানে তাদের মোট আমানত এক লাখ কোটি টাকার বেশি। ব্যাংকটির বর্তমান ভোক্তা ঋণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে, সিটি ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ ৪৫ হাজার কোটি টাকা এবং ভোক্তা ঋণের স্থিতি ১২ হাজার কোটি টাকা। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এই ব্যবসা অধিগ্রহণ করতে পারলে ব্যাংক দুটির ঋণের স্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ব্র্যান্ড ভ্যালু ও আর্থিক সূচকে বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিটি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এই ব্যবসা বিক্রির খবরে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইতিপূর্বে আমেরিকান এক্সপ্রেসের কার্ড ব্যবসা এনে সিটি ব্যাংক ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছিল। তবে বিষয়টি বেশ জটিল এবং চূড়ান্ত রূপ নিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, প্রাথমিক সভা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ব্যবসার মূল্য নির্ধারণসহ দীর্ঘ প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।
এর আগে কৌশলগত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড অ্যাঙ্গোলা, ক্যামেরুন, জর্ডান, জিম্বাবুয়েসহ বেশ কিছু দেশ থেকে স্থানীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। শ্রীলঙ্কায় তারা সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও রিটেইল ব্যবসা বিক্রি করে দিয়েছে। বাংলাদেশে এর আগে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি এইচএসবিসি তাদের রিটেইল ব্যাংকিং বন্ধ করে দেয় এবং ২০০৫ সালে আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছিল।
বিষয়টি নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের প্রধান বিটপী দাশ চৌধুরী লিখিত বিবৃতিতে জানান, তারা বাজারের কোনো গুঞ্জন নিয়ে মন্তব্য করেন না। তিনি আরও বলেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ধারাবাহিকভাবে তাদের বৈশ্বিক ব্যবসায়িক মডেল মূল্যায়ন করে। ১২০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এই ব্যাংকটি তাদের গ্রাহকদের অনন্য সুবিধা প্রদানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বাংলাদেশের বাজারে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর বিপরীতে ব্যক্তিগত, গাড়ি, বাড়িসহ ভোক্তা ঋণ রয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এখন পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক অধিগ্রহণে দৌড়ে এগিয়ে আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তানজানিয়া ও আইভরি কোস্টে কনজ্যুমার, প্রাইভেট ও বিজনেস ব্যাংকিং থেকে সরে গেলেও করপোরেট ও ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং চালু রাখে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসলামিক শরিয়াহ নীতি মেনে পরিচালিত ‘স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সাদিক’ সেবার আওতায় সুদবিহীন ডিপিএস, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ও ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা। চাকরির আরও তথ্য: অনাবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আছে বিশেষায়িত ‘স্বদেশী ব্যাংকিং’ সেবা, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে সঞ্চয় ও সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুরো অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা সময়সাপেক্ষও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা বাংলাদেশের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছি।’।
সূত্র: প্রথম আলো








