জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ:

জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার মাধ্যমে এক বিরল ইতিহাসের সাক্ষী হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৪টা ১৮ মিনিটে তিনি বিশ্ব সংস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে প্রথমবারের মতো বক্তব্য রাখেন। এর মাধ্যমে পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।

পরিবারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তিনি তার প্রথম ভাষণে মাতৃভাষাকে বেছে নেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের প্রত্যাশা, মানবাধিকার সুরক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথা তিনি বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরেন। নিউইয়র্ক সময় বিকেলে সাধারণ পরিষদ হলে দেওয়া এই ভাষণে তিনি দেশের অবস্থান ও জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোতে আলোকপাত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানবিক সহায়তা ও রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেন তিনি।

তারেক রহমানের এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘে তার পরিবারের চার দশকের সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি তৎকালীন ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার বৈষম্য, দারিদ্র্য বিমোচন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তারেক-শেহবাজের প্রথম বৈঠক, সম্পর্ক নিয়ে যে বার্তা দিল পাকিস্তান।

এরপর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের ৪৮তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম ভাষণ দেন। নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

খালেদা জিয়ার উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ সভায় ভাষণ দেওয়া। এছাড়া ২০০২ সালের শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশন চলাকালীন দুটি পৃথক সভায় তিনি অংশ নেন ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এদিকে, বর্তমান অধিবেশনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নেতানিয়াহুর ভাষণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশসহ ৭৭টি দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই বিমানের। জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ, বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের ওয়াকআউট।

জাতিসংঘের এই উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে থেকেই দেশীয় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, যেমন সরকারি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা বা রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনসের বহর বাড়ানোর মতো উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। দেশের সব হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক করল সরকার।

শেয়ার করুন