সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে হুমায়ুন আহমেদ (৩০) নামে এক মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বাঘবের বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হুমায়ুন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং রতারগাঁও গ্রামের দক্ষিণপড়া জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইমামতি করার সুবাদে ওই ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে হুমায়ুনের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে দিগেন্দ্র বর্মন সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৪ মে রাতে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে ওই ছাত্রীকে মসজিদের পাশের নিজের কক্ষে ডেকে নেন হুমায়ুন। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয় এবং কাউকে কিছু না বলার জন্য চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
পরবর্তীতে ১৭ জুলাই দুপুরে আবারও নিজ কক্ষে নিয়ে ওই ছাত্রীকে নির্যাতন করেন অভিযুক্ত ইমাম। এ সময় তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখান। তবে পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে হুমায়ুন তা অস্বীকার করেন এবং হুমকি দেন। ভুক্তভোগী ছাত্রী গত মাসের শেষ সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে পড়লে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ জুলাই ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত মে মাসের ২৪ তারিখ মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে রাত আনুমানিক ৯টার সময় মসজিদের সংলগ্ন ইমামের কক্ষে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন এবং কাউকে না বলার জন্য চাকু দেখিয়ে ভয় দেখান।
এরপর আবারও জুলাই মাসের ১৭ তারিখে দুপুর আড়াইটার দিকে নিজের থাকার ঘরে ওই কিশোরীকে নিয়ে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করেন।
সূত্র: Probash Khabor








