দশ মাস পেরিয়েও বই পায়নি দেবীগঞ্জের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী

প্রকাশ:

শিক্ষাবর্ষের ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সব পাঠ্যবই হাতে পায়নি। বুধবার সরেজমিন পরিদর্শনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বই না পাওয়ার এই চিত্র উঠে আসে। ষষ্ঠ শ্রেণির ১১৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকেই বিজ্ঞান, গণিত, ধর্ম এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্রের বই থেকে বঞ্চিত। এছাড়াও চারু ও কারুকলা, শারীরিক শিক্ষা এবং কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষার বই অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছেই নেই। সপ্তম শ্রেণির সাতজন শিক্ষার্থী হিন্দুধর্ম ও অষ্টম শ্রেণির দুজন শিক্ষার্থী চারু ও কারুকলা বিষয়ের বই পায়নি। শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হতে চললেও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এখনো বিভিন্ন বিষয়ের পাঠ্যবই পায়নি। গতকাল বুধবার দুপুরে বিদ্যালয়ে সরেজমিনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বই না পাওয়ার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

নবম শ্রেণির মানবিক বিভাগের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। ৪৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন কৃষি শিক্ষা, ১০ জন গণিত, ৮ জন আইসিটি, ৬ জন বিজ্ঞান এবং ধর্ম, ভূগোল, বাংলা ও ইংরেজিসহ আবশ্যকীয় বিভিন্ন বই পায়নি। একই শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ৭১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন কৃষি শিক্ষা এবং একজন উচ্চতর গণিত বই পায়নি। বই না পাওয়া শিক্ষার্থী বিপ্লব রায় জানায়, সে শুরু থেকেই এই বিভাগে থাকলেও ধর্ম বই পায়নি, ফলে বাধ্য হয়ে গাইড বই পড়ে পরীক্ষা দিয়েছে। অপর শিক্ষার্থী মাহমুদুল ইসলাম মুরাদের ভাষ্য, সে মাত্র পাঁচটি বই পেয়েছে, বাকিগুলোর জন্য শিক্ষকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সমাধান মেলেনি। শিক্ষকের কাছে গেলে তিনি দায়িত্বরত কর্মীর কাছে পাঠান, কিন্তু সেখানেও বই মেলেনি। বাধ্য হয়ে গাইড বই পড়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাকে। আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদুল ইসলাম মুরাদ জানায়, সে এ পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি বই পেয়েছে, বাকি বইগুলোর জন্য শিক্ষকের কাছে ধর্না দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

বিদ্যালয়ে বই বিতরণের কোনো রেজিস্টার বা সঠিক তালিকা সংরক্ষণ করা হয়নি। বই বিতরণের দায়িত্বে থাকা খণ্ডকালীন নৈশপ্রহরী রাসেল ইসলাম জানান, তাকে কোনো তালিকা তৈরি করতে বলা হয়নি। বই যা ছিল তা বিতরণ করা হয়েছে মাত্র। অন্যদিকে, শ্রেণি শিক্ষকদের দাবি, মিউচুয়াল ট্রান্সফারের কারণে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাওয়া এবং চাহিদা অনুযায়ী বইয়ের সংকট তৈরি হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষক তনবিরুজ্জামান রুবেল, নবম শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষক নয়ন চন্দ্র রায় এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক স্বপন চন্দ্র প্রামানিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত সরকারি অফিস সহায়ক থাকা সত্ত্বেও বই সংগ্রহ ও বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খণ্ডকালীন নৈশপ্রহরী রাসেল ইসলামকে।

শিক্ষার্থীদের বই না পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি.এম রুহুল আমিন। তার দাবি, সব শিক্ষার্থীকে বই দেওয়া হয়েছে এবং যারা অভিযোগ তুলছে, হয়তো তাদের বই হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন