যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এই ধরনের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। এই তথ্য ফাঁসের পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে কঠোর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
ক্যাম্প ডেভিডে আয়োজিত সাম্প্রতিক ক্যাবিনেট বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প বেশ কয়েক মাস ধরেই গোলাবারুদের ঘাটতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন, তবে আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে অস্ত্রাগারের সীমাবদ্ধতার খবর প্রকাশ্যে আসায় তিনি চরম বিরক্ত হয়েছেন। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা কারখানাগুলো নতুন উদ্যমে কাজ করছে, তবুও সাংবাদিকদের কাছে তিনি স্বীকার করেছেন যে কিছু উচ্চ প্রযুক্তির বিশেষ অস্ত্রের সরবরাহ এখন সংকটজনক পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষ করে থাড এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রশাসনের মেয়াদে থাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের চার-পঞ্চমাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ব্যবহৃত হয়ে গেছে। এই ঘাটতি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় এসব মার্কিন ব্যবস্থার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রশাসনের ভেতরে থাকা যুদ্ধবিরোধী কোনো গোষ্ঠী প্রেসিডেন্টকে ইরানের সাথে সামরিক সংঘাত থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এই তথ্য ফাঁস করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প ইতোমধ্যে ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’ জারি করেছেন এবং শীর্ষ প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সিইওদের সাথে জরুরি বৈঠক করে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র উৎপাদনের এই নতুন প্রক্রিয়া পুরোপুরি কার্যকর হয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
সূত্র: গালফ বাংলা








