মশা দমনে নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ: যুক্তরাষ্ট্রে ছাড়া হচ্ছে ৬ লাখ পুরুষ মশা

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে এক নতুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। টড মন্টগোমারি নামের এক ব্যক্তি তার বাড়ির আঙিনায় শত শত পুরুষ মশা ছেড়ে দিয়ে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন। এই মশাগুলো মানুষকে কামড়ায় না, বরং এগুলো মশা দমনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। পুরুষ মশার শরীরে ওলবাকিয়া নামের এক প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া থাকে। যখন এই ব্যাকটেরিয়াবাহী পুরুষ মশা ব্যাকটেরিয়াবিহীন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন স্ত্রী মশার ডিম থেকে নতুন মশার জন্ম হয় না। এভাবেই প্রাকৃতিক উপায়ে মশার সংখ্যা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ পুরো এলাকায় প্রায় ৬ লাখ এশিয়ান টাইগার মশা ছেড়ে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’ নামের প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির ৩২ বছর বয়সি প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে উষ্ণ ও আর্দ্র দিনের সংখ্যা বাড়ছে, যা রোগবাহী মশার বংশবিস্তারে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে। তিনি জানান, দেশীয় উদ্ভিদ ও পরাগায়নকারী প্রাণীর প্রতি আগ্রহ এবং রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প খোঁজার লক্ষ্য থেকেই ২০২৩ সালে তিনি এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি কীটতত্ত্বে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত আছেন।

‘জ্যাপ মেলস’ নামে পরিচিত এই পদ্ধতিটি মূলত এশিয়ান টাইগার মশার ওপর কার্যকর। এই মশাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় প্রজাতি না হলেও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করে। সম্প্রতি উত্তর ভার্জিনিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর এই উদ্যোগটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া ব্যবহারের এই কৌশলটি মশার বংশবিস্তার রোধে অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালে সিঙ্গাপুরে ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’ নামে একটি বড় সরকারি প্রকল্প শুরু হয়, যার আওতায় বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ১ কোটিরও বেশি পুরুষ মশা ছাড়া হচ্ছে। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির মশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি ৭০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। মন্টগোমারির এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক এলাকায় মশা দমনে রাসায়নিক কীটনাশকের একটি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’-এর ৩২ বছর বয়সি প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যেন একটি টিকটিক করা সময়বোমার ওপর বসে আছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের বাসিন্দা টড মন্টগোমারি তার বাড়ির আঙিনায় ছোট একটি টিউবের ঢাকনা খুলে শত শত মশা ছেড়ে দেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম।

এতে রোগবাহী মশার বংশবিস্তার ও সক্রিয় থাকার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে।

কেন্টাকির বাসিন্দা ও সাবেক বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মন্টগোমারি প্রতিরক্ষা খাতে চাকরির জন্য ওয়াশিংটন এলাকায় আসেন।

নিজের বাড়ির আশপাশে কীটনাশক ছিটাতে দেখে মনে হয়েছে, এর একটি নিরাপদ বিকল্প প্রয়োজন।’

শেয়ার করুন