ইরানি মিত্রদের সমন্বিত হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব, হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন শর্ত তেহরানের

প্রকাশ:

সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রিয়াদের জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্রের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে সৌদি আরবের ওপর সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার আওতায় উত্তরের ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া এবং দক্ষিণের ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা একযোগে সামরিক অভিযান চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রয়টার্স ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদির কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলো এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে চার বছর বয়সী এক শিশুসহ ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি।

হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে ইরান। ওমানের সঙ্গে জাহাজ চলাচলের জন্য তিন ধাপের একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে তেহরান। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বাজেয়াপ্ত ইরানি সম্পদ নিয়ে আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি উন্মুক্ত করা হবে না। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী সরাসরি হামলার শিকার হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইরানি পার্লামেন্টে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থদণ্ডের একটি খসড়া বিল বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।

চলমান এই উত্তেজনা নিরসনে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শক্তিশালী অস্ত্রের মজুত থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রের ভাণ্ডার সীমিত।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশে সৌদি সমর্থিত সরকারি সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ সেনা নিহত হয়েছেন। হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সামরিক তৎপরতার জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। দুই সীমান্ত থেকেই একযোগে এমন সামরিক হুমকির মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

শেয়ার করুন