নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডলকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ফেনসিডিল সেবন ও জুয়া খেলার দুটি ছবি ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ছবিগুলো পুরোনো বলে দাবি করা হচ্ছে, তবুও একজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর কর্মকাণ্ডের অভিযোগ জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আরিফ মন্ডল পারিবারিকভাবেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ছাত্রদলের ইউনিয়ন সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে পরবর্তীতে যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একপর্যায়ে যুবদলের সাংগঠনিক ধাপ অতিক্রম না করেই তিনি কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ পান। তার বিরুদ্ধে অতীতেও মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠেছিল এবং স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, একবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ফেনসিডিলসহ তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু জানান, বিষয়টি তার নজরে আসেনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো নেতা ব্যক্তিগতভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তার দায় দল নেবে না। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি গণমানুষের দল এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। এছাড়া সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জুয়া বিরোধী নতুন আইন পাস হয়েছে, তাই দলের কেউ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সচেতন মহলের মতে, একজন রাজনৈতিক নেতা মাদক ও জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধির সঙ্গে জড়িত থাকলে তা সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয়। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি। এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে আরিফ মন্ডলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: Daily Amar Desh








