জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। দু’বারের সাবেক মন্ত্রী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি আনন্দবাজারের মুখোমুখি হয়েছেন। দলটির পরবর্তী রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারে অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন। প্রশ্ন করা হয়, জাহাঙ্গীর কবির নানক কেমন আছেন আপনি? জবাবে তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি করি, আমরা একটা পরিবার। এই পরিবারটি যখন ভালো না থাকে, তখন আমরা কেউ ভালো থাকি না।
নানক তার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, ১৯৬৯ সালের আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি ফ্রন্ট ফাইট বা সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। সে সময় তিনি ভারতে এসে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর থেকেই তাদের আত্মগোপনে জীবন কাটাতে হয়েছে। নানকের দাবি, সেই সময় থেকেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানক বলেন, ৪ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমি গণভবনে ছিলাম। এরপর আমি চলে আসি ৫ আগস্ট। তিনি বলেন, যা ঘটলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আমাদের চোখের সামনে আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখছি যে, বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু কী অপমানজনকভাবে তারা ভেঙেচুরে চুরমার করেছে। ধানমন্ডি ৩২-কে ভেঙে গুড়িয়ে দিল বুলডোজার দিয়ে। তার মতে, ৫ আগস্ট যারা ক্ষমতা দখল করেছে—তারা বাংলাদেশবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী।
নিজের বিরুদ্ধে আনা হত্যা মামলার বিষয়ে নানক বলেন, আমার কাছে টোটাল মামলার নথি আছে। কিন্তু কোথাও কোনো সাক্ষী বলেননি যে, ওনাকে দেখেছি। তিনি দাবি করেন, আইন ও আদালত, বিচারালয় যদি আইনের গতিতে চলে আমি আপনাকে বলতে পারি—যত হত্যা মামলা দিয়েছে ইনক্লুডিং আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইসিটি আদালত থেকে শুরু করে, কোনো মামলা টিকবে না। কোনো মামলার অস্তিত্ব থাকবে না। তিনি আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক বিচার হলে তিনি এবং তার দলের নেতারা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নানক বিভিন্ন সময় প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়টি আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে কঠিন। তবে তিনি আশাবাদী যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, আমরা দেশের জন্য কাজ করেছি, দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি। আজ যারা ক্ষমতায় আছে, তারা ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সত্য চাপা থাকে না। তিনি তার বক্তব্যে বারবার জোর দিয়েছেন যে, ৫ আগস্টের পর থেকে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য শুভ নয়। তিনি তার সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যখন তিনি দেশের বাইরে থেকে দলের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছেন। নানক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি পালিয়ে যাননি, বরং পরিস্থিতি তাকে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য করেছে। তিনি মনে করেন, সময়ের প্রয়োজনে তিনি আবার জনসম্মুখে আসবেন এবং দলের হাল ধরবেন। তার এই বক্তব্য আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে এক ধরনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি তার বক্তব্যে কোনো ধরনের আপস না করে বরং বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, এই সরকার দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং জনগণ আবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখতে চাইবে। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি তার রাজনৈতিক অবস্থানের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন, যেখানে তিনি নিজেকে একজন দেশপ্রেমিক এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার আশা ব্যক্ত করেছেন। নানক তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। তিনি তার সমর্থকদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং দলের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি ভিন্ন দিক উন্মোচন করেছে। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষ এখন সত্য বুঝতে পারছে এবং শীঘ্রই তারা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে। নানক তার বক্তব্যে কোনো ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন না করে বরং সাহসের সাথে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, সত্যের জয় হবেই এবং তিনি আবার তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসবেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। নানক তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। তিনি তার সমর্থকদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং দলের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি ভিন্ন দিক উন্মোচন করেছে। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষ এখন সত্য বুঝতে পারছে এবং শীঘ্রই তারা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে। নানক তার বক্তব্যে কোনো ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন না করে বরং সাহসের সাথে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, সত্যের জয় হবেই এবং তিনি আবার তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসবেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। নানক তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। তিনি তার সমর্থকদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং দলের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি ভিন্ন দিক উন্মোচন করেছে। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষ এখন সত্য বুঝতে পারছে এবং শীঘ্রই তারা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে। নানক তার বক্তব্যে কোনো ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন না করে বরং সাহসের সাথে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, সত্যের জয় হবেই এবং তিনি আবার তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসবেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। নানক তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। তিনি তার সমর্থকদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং দলের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি ভিন্ন দিক উন্মোচন করেছে। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষ এখন সত্য বুঝতে পারছে এবং শীঘ্রই তারা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে। নানক তার বক্তব্যে কোনো ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন না করে বরং সাহসের সাথে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, সত্যের জয় হবেই এবং তিনি আবার তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসবেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৭১ সালে ভারতে আসা, ট্রেনিং নেয়া।
আমি চলে আসলাম পরের দিন ফিফথ আগস্ট (৫ আগস্ট)।
কারণ ৫ আগস্ট তো—আর আমি ১৬ আগস্ট বর্ডার ক্রস করতেছি।
অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢোকা, মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করা, দেশ স্বাধীন করা ইত্যাদি।
কিন্তু খুব বড় আত্মগোপনে আমাদেরকে যেতে হয়েছে যেমন— খালেদা জিয়ার শাসনামল, অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াতের শাসনামলে।
বন্ধু ও পরিজন-পরিবার কাদের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে আপনার?
বেঁচে আছি কেন বা এই ঘটনা দেখার আগে কেন মৃত্যু হলো না!
তারস্বরে আমি চিৎকার করে বলতে পারি যে, এই ঘটনার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো, তাহলে সেই মৃত্যু হতো আমার শান্তির মৃত্যু।
আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের স্বাধীনতা এনেছি।
ওরা স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল, সেই পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নিয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা, পায়ের জুতা খুলে গালে পিটানো, এগুলো দেখতে হয়েছে আমাদেরকে।
গত দু’বছরে কোনো রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি।
ভোরবেলা যে আজান দেয়, সেই ফজরের নামাজ পড়ার পরে একটু টায়ার্ড হয়ে শরীর যখন ছেড়ে দেয় তখন ঘুমাতে যাই।
আর আরেকটা মনে পড়ে—ছেলেটার কবরের কাছে যেতাম।
এরা গণতন্ত্রবিরোধী, এরা মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি।
এরা পাকিস্তানের দালাল, পাকিস্তানপন্থী।
ওরা আবার এটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়।
প্রশ্ন: আপনি কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন, কীভাবে ভারতে এলেন, কারা আপনাকে সাহায্য করলেন?
আমি আসলে প্রায় একেবারে পড়েই গিয়েছিলাম আমার শোয়ার জায়গায়।
যখন আমার চৈতন্য উদয় হয়, তখন এক ক্লোজ রিলেশন এয়ারফোর্স, ও আমাকে ফোন করল।
তো বলল যে, চিন্তা করবেন না, উনি বর্ডার ক্রস করেছেন সেফলি।
তারপর তো একের পর শেল্টার চেঞ্জ করছি।
এরপরে একটি পর্যায়ে বুঝতে পারলাম যে, আমাকে এখন ধরার জন্য তারা মরিয়া হয়ে যাবে।
ডিসাইড করে ফেললাম—আই হ্যাভ টু লিভ দ্য কান্ট্রি।
আমার জামাই ডাক্তার, ফোন করল যে-বাবা আপনি বেরিয়ে যান।
আমি যেভাবে যেভাবে বলব সেভাবে বেরিয়ে যাবেন এবং সেই গাইডটা করেছে মূলত।
সে গাইডটা করে নিয়ে এসেছে, বের করে এনেছে।
নানক: না না আমি তো ১৬ আগস্ট শিলংয়ে পৌঁছলাম।
বিকজ মালদাহতে আমার নাতি-নাতনি, মেয়েরা ওরা গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
সেখান থেকে আমি পরের দিনে চলে আসলাম কলকাতায়।
আপনি একজন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখেন?
নানক: ৫ আগস্ট যদি ৩০ মিনিট দেরি করতেন, তাহলে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ওইদিন গণভবনে থাকা তার ছোট বোন শেখ রেহনাকে নির্মমভাবেই শুধু হত্যা করত না, নৃশংস নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করত।
আজকে বেঁচে আছেন বলেই আজ সারা বিশ্ব বিবেক, ১৮ কোটি মানুষের বিবেক মিলে কিন্তু বলছে যে, শেখ হাসিনা ছাড়া এই দেশ পরিচালনা মতো যোগ্য নেতৃত্ব আর দ্বিতীয় কেউ নেই।
প্রশ্ন: আচ্ছা ভারত সরকার কি আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট রক্ষাকবজ দিয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যাটাস মানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চাপ এলে আপনার পদক্ষেপ কী হবে?
এবং সে চাপ যতই যাই হোক না কেন—এটা সামাল দেয়ার ক্ষমতা ভারত সরকারের আছে।
মানে যে ভুল আপনারা আর করবেন না, মানে আপনার মূল্যায়ন কি?
নানক: আমরা একটা গভীর ষড়যন্ত্রের, ডিপ স্টেট ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম।
প্রশ্ন: ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকলেন পরপর টানা।
কিছুতেই বুঝতে পারলেন না যে কোথা থেকে এই লিকেজটা হলো?
উনি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই কিন্তু ৬ মাস আগে থেকে বলা শুরু করেছেন যে, আমাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে, ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
সাদা চামড়াওলারা এভাবে…কোট আনকোট আমি বলছি—‘সাদা চামড়াওয়ালারা আমাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে চায়’।
আমি সাগর পাড়ি দিয়েও ওদিকে যাবো না, বাঙালি যাবে না।
দেশবাসীকে কিন্তু উনি ওয়েল ইনফর্ম করেছেন।
দেখেন, আমি একটা কথা বলে রাখি—আমাদের যে দলীয় ব্যর্থতা বা দলীয় দুর্বলতার প্রশ্ন থাকতেই পারে আপনাদের কাছে।
কারণ পৃথিবীতে অনেক জায়গায় আছে ডিপেস্টেট—এ ধরনের কন্সপাইরেসি করেছে।
কোথাও কোথাও সফল হয়েছে, কোথাও কোথাও ব্যর্থ হয়েছে।
আমি আপনাকে বলছি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেদিন এই তথাকথিত কোটাওয়ালারা অর্থাৎ মূলত শিবির দখল করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে, সেদিন ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি নেত্রীকে ফোন করেছেন।
কোট আনকোট করে বললাম—আমি এবং আমি দায়িত্ব নিয়েই বললাম যেটা উনি বলেছেন।
৫০ হাজার লোক নিয়ে আমার গণভবন ঘেরাও করে রাখার ক্ষমতা ছিল না!
আমাদের জমায়েতের শক্তিতে ওরা হারিয়ে যেত।
উনি যদি আমাদেরকে শুধু চোখের ইশারা দিতেন—তাহলে ঢাকা শহরে আমরা পাঁচ থেকে ১০ লক্ষ লোকের জমায়েত করে ফেলতে পারতাম।
আমাদের যে বেজলাইনটা আছে-ফ্রম ঢাকা টু মাওয়া, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট এগুলো তো আমাদের বেজলাইন।
গাজীপুর শক্ত ঘাঁটি, গাজীপুরকে বলা হয় এনাদার গোপালগঞ্জ।
গাজীপুর থেকে এক লক্ষ লোক ঢুকে যেতে পারতো।
ঢাকার বুড়িগঙ্গার পার হলে পরে কেরাণীগঞ্জ।
ঢাকার অদূরেই নারায়ণগঞ্জ আমাদের শক্ত ঘাঁটি।
ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথেই শক্ত ঘাঁটি নরসিংদী।
আমরা সব ফাঁক-ফোকরগুলো বন্ধ করে দিয়ে কিন্তু দখল নিতে পারতাম।
সেখানে কিন্তু আরেকটি সম্ভাবনা থাকতো।
সেটা ওদের হাতে অস্ত্রের খবর তো আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে, আমাদের নেত্রীর কাছে ছিল।
প্রশ্ন: কো-ল্যাটারেল ড্যামেজ অনেক বেশি হতে পারতো?
নো, আমি বলছি—আমার এই বয়সেও আমি ছাড়তাম না।
একটা লাঠি নিয়ে হলেও আমি দাঁড়িয়ে যেতাম।
আওয়ামী লীগের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব না।
আপনি কালকে ভোট দেন, একটা ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট আসুক।
একটা একশ পারসেন্ট, ফেয়ার অ্যান্ড ফ্রি ইলেকশন দিক—যদি আমরা টু থার্ড মেজরিটি না পাই…..প্রমাণ হোক জাতিসংঘ বাহিনী আসুক।
যদি আওয়ামী লীগ টু থার্ড মেজরিটি না পায়—তাহলে আমরা নাকে খত দিয়ে সবাই একসঙ্গে রাজনীতি ছেড়ে দেব।
ওয়াশিংটনে জয় রয়েছেন, শেখ হাসিনার ছেলে রয়েছেন বা উনার লন্ডনেও একবার যাওয়ার কথা হচ্ছিল যে, লন্ডনেও চলে যেতে পারেন।
নানক: ভারতের ওপর দায়-দায়িত্ব যেটা দিতে চায়—এটি তো সঠিক না।
তারা ভারতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার কারণে, এসএসএফ-এর অফিসার ও বিমান বাহিনীর অফিসার সবাই মিলেই তো তারা দিল্লিতে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছেন।
প্রশ্ন: ভারতের তরফ থেকে এই অপারেশনটা লিড কে করেছিল?
আমি অনেক কৃতজ্ঞ ভারত সরকারের প্রতি।
যে নিরাপত্তা ওনাকে দেয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকলই দেয়া হচ্ছে।
আমি ভালো আছি তোমরা ভালো আছো কিনা তাই বলো।
বিশ্বাস করেন আপনাকে বলছি—আমি এমনটা খুব রিসেন্ট জিজ্ঞাসা করেছিলাম।
প্রশ্ন: কলকাতায় নাকি আওয়ামী লীগের অফিস রয়েছে।
সূত্র: মানবজমিন








