জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে ফেরিডুবি: ৪৪ জনের প্রাণহানি, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

প্রকাশ:

জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৪৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ফেরিটির যাত্রী বহনের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ছিল ৯০ জন। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় টিকিট বিক্রির হিসাব অনুযায়ী, নৌযানটিতে অন্তত ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু ছিলেন। এছাড়া টিকিটের প্রয়োজন হয় না এমন বয়সী শিশুরাও ফেরিতে ছিল, যার ফলে প্রকৃত যাত্রীর সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারিবা শহর থেকে যাত্রা শুরুর পর হ্রদের উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ফেরিটি উল্টে যায়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের অভিযোগ, হ্রদে ঢেউ ভয়ংকর রূপ নিলে তারা ফেরিটি ঘুরিয়ে নেওয়ার জন্য চালককে অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়। একপর্যায়ে ফেরির ইঞ্জিন কক্ষে পানি ঢুকে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এই ঘটনার পর জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর নৌ ইউনিট, পুলিশের ডুবুরি দল ও হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। উল্লেখ্য, জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়া সীমান্তে অবস্থিত কারিবা হ্রদটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার, যা স্থানীয় যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পুলিশ জানায়, ফেরিটিতে ৯০ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা ছিল।

হ্রদ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪-এ দাঁড়ায়।

এ ঘটনায় আরও অনেক লোক নিখোঁজ হয়েছেন।

একপর্যায়ে ফেরিতে পানি ঢুকতে শুরু করলে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদগুলোর একটি এই জলাধার দুই দেশের মানুষের যাতায়াত, মাছ ধরা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শেয়ার করুন