উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কেবল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা যথেষ্ট নয়, বরং এর সঙ্গে মানবিকতার সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের সম্প্রসারিত ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী, এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। উদ্বোধনী কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও রোগীর মানসিক উদ্বেগ ও কষ্ট লাঘবে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ চিকিৎসার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চিকিৎসা পরিবেশ নির্বিঘ্ন করার দায়ভার কেবল চিকিৎসকদের ওপর নয়। চিকিৎসক, রোগী এবং রোগীর স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের সম্পর্ক থাকা জরুরি। এই আস্থার অভাব থাকলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সত্ত্বেও বিদেশমুখী চিকিৎসা প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কেবল মৌলিক অধিকার নয়, এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির চাবিকাঠি। সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে অর্থাভাবে কোনো নাগরিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবেন না এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কাউকে দেশের বাইরে যেতে হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে সরকার ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার প্রমাণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো বাড়ানো নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসা কেবল শহরের বিত্তবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা হতে পারে না। প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত সেবা পৌঁছে দিতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের ভেতরেই সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চায়। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সকলের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ভবন-২ উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকার সেই লক্ষ্য পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের সম্প্রসারিত ৫’শ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
একথা আমরা সকলেই উপলব্ধি করে, রোগীর প্রতি একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা, রোগীর মানসিক অবস্থা বোঝা এবং রোগীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘এটিও মনে রাখতে হবে, চিকিৎসা সেবা এবং চিকিৎসা পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে সকল দায় দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয়।
এই তিনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মানের পরিবর্তে চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন কিংবা রোগী এবং রোগীর স্বজনরা যদি চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস এবং মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন তাহলে আমরা যতই হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করি, চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না।’
আমরা মনে করি, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ও সবার জন্য সমানভাবে প্রাপ্য হওয়া জরুরি।
সুতরাং, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক মানুষের কাছেও সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
বরং সরকার দেশে একটি কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যাতে মানুষ দেশের ভেতরেই সকল রকমের স্বাস্থ্যসেবা পায়।
একজন সাধারণ মানুষের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান আপনাদের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।’
সূত্র: মানবজমিন








