সরকারের ছয় মাস মেয়াদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সারা দেশের মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি ভাতা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আজ রোববার বিকেলে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী দিনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ৪৩২ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম, ৫টি মন্দিরের ১০ জন পুরোহিত এবং একটি গির্জার ২ জন যাজকসহ মোট ৪৪৪ জনকে সম্মানি প্রদানের মাধ্যমে এই উদ্যোগের যাত্রা শুরু হবে। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন অনুদান প্রদান করবেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম কিশোরগঞ্জ সফর। দিনব্যাপী এই সফরের শুরুতে সকাল ১১টায় পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। এরপর দুপুর ১২টায় কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে তিনি কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে পৌঁছাবেন। সেখানে বেলা একটায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন ও জাতীয় মৎস্য পদক ২০১৬ প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী।
দুপুর পৌনে দুইটায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বেলা আড়াইটায় তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করবেন। একই স্থানে কিশোরগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল সোয়া তিনটায় কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউসে ৪৫ মিনিট অবস্থান করবেন তিনি। সবশেষে বিকেল চারটায় পুরাতন স্টেডিয়ামের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সন্ধ্যা ৬টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার এই জেলায় প্রধানমন্ত্রীর সফর নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশা পূরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সরকারের ৬ মাস মেয়াদের মধ্যে আরও একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
সূত্র: মানবজমিন








