জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই বিচারক হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই পলাতক রয়েছেন।
আদালত এই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষ পাঁচ আসামির যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাজেয়াপ্তকৃত এই সম্পত্তি বিক্রয়লব্ধ অর্থ ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ বা সমজাতীয় সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এ রায় দেওয়া হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে আসামিদের নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা সুপরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। হত্যাকাণ্ডের এসব ঘটনায় আসামিদের সরাসরি নির্দেশনা, উস্কানি ও সম্পৃক্ততা ছিল বলে ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। মামলার রায়ে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এসব নেতাদের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং দলটির অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যাপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ।
আসামি ও অভিযোগভিত্তিক দণ্ডাদেশ
- ওবায়দুল কাদের: ১, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে পৃথকভাবে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড।
- আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: ২ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস, ১ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড।
- মোহাম্মদ আলী আরাফাত: ৩ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস, ১ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড।
- শেখ ফজলে শামস পরশ: ১ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস, ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড।
- মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল: ১ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড।
- মো. সাদ্দাম হোসেন: ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড।
- শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান: ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড।
সূত্র: মানবজমিন








