কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তদারকিতে ‘এআই ফোর্স’ ও ‘এআই জার’ নিয়োগের

প্রকাশ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় জানিয়েছেন যে, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি তদারকির জন্য একজন ‘এআই জার’ নিয়োগ দেবেন এবং ‘এআই ফোর্স’ নামে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করবেন। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, তাঁর প্রথম মেয়াদে যেমন স্পেস ফোর্স সফলভাবে গঠিত হয়েছিল, এআই ফোর্সও সেভাবেই কাজ করবে। এই বিশেষ পদের জন্য তিনি অত্যন্ত উচ্চ আইকিউ সম্পন্ন মেধাবীদের আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রযুক্তি খাতের উদ্বেগ ও ট্রাম্পের অবস্থান

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা ও এর ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের একাধিক ব্যক্তি এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন এবং এআইয়ের বিকাশ বা উন্নয়নের গতি ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন। অনেক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত বিকাশমান এ প্রযুক্তি মানব অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। খোদ রিপাবলিকান দলের অনেক নীতিনির্ধারকও এআইয়ের ঝুঁকি ও জননিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে ট্রাম্প এই সতর্কতাগুলোকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এআই নিয়ে যে ভীতি ছড়ানো হচ্ছে, তা ‘ধাপ্পাবাজি’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

ট্রাম্পের পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ট্রাম্পের মতে, এআইয়ের বিকাশ নিয়ে ছড়ানো ভীতি উগ্র বামপন্থী ডেমোক্র্যাটদের একটি কৌশল, যার উদ্দেশ্য দেশকে ধ্বংস করা। তিনি তাঁর দাবির সপক্ষে বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেছেন

  • ২০১৬ সালের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ
  • ইউক্রেন সংকট
  • বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
  • তাঁর বিরুদ্ধে দুটি অভিশংসনের প্রচেষ্টা
  • নারীদের খেলাধুলায় পুরুষদের অংশগ্রহণের বিতর্কিত বিষয়গুলো

ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসন এআই শিল্পের বিকাশে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। প্রয়োজনে যারা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের এ ধরনের দ্রুত উদ্যোগের পেছনে একটি বড় কারণ হলো ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তারা মনে করছেন, এআইয়ের দ্রুত বিকাশ না ঘটালে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন এ প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে, এআই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া বা অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক চললেও ট্রাম্প তাঁর অবস্থানে অটল থেকে এই প্রযুক্তির প্রসারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শেয়ার করুন