ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনসংযোগ অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। অনুষ্ঠান দুটির প্রথমটি গত বৃহস্পতিবার উত্তর প্রদেশের মিরাটে এবং দ্বিতীয়টি আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী এলাকা বারানসিতে হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র গণমাধ্যমে এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে মিরাট ও বারানসির এই কর্মসূচি ঠিক কোন কারণে বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সূত্রের কথায়, নানা কারণে এ ধরনের জনসংযোগ অনুষ্ঠান আগেও স্থগিত রাখা হয়েছে; যদিও সেসব অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার হয় প্রধানত আবহাওয়ার কারণে। কখনো শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানস্থল বাতিল হয়, কখনো আবহাওয়ার কারণ দেখা দেয়।
কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, অতীতেও বিভিন্ন কারণে এ ধরনের কর্মসূচি বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে, যার মধ্যে আবহাওয়াজনিত কারণই প্রধান। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ইলেকটোরাল লিটারেসি ক্লাব (ইএলসি) ও ইসিনেট কর্মসূচির সর্বশেষ আয়োজনটি গত ১১ সেপ্টেম্বর গুজরাটের আহমেদাবাদে সম্পন্ন হয়েছিল। উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখের মতো অঞ্চলেও পূর্বে এ ধরনের অনুষ্ঠান স্থগিত বা বাতিলের নজির রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি সূত্র।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি ও সিইসির ভূমিকা নিয়ে কমিশনের অপর দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনার পর থেকে ভারতের বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সিইসির ইস্তফার দাবি জোরালো হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এবং শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরেরা প্রকাশ্যে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এছাড়া, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে সিইসিকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাঁরা দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দেবেন।
নির্বাচন কমিশনের এই জনসংযোগ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গণতন্ত্র, নির্বাচন প্রক্রিয়া, ভোটের অধিকার এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। বিশেষ করে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী জেন আলফা (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী) এবং ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী জেন-জি ভোটারদের আকৃষ্ট করা এর প্রধান উদ্দেশ্য। এছাড়াও গ্রামীণ এলাকায় ‘ভোট পাঠশালা’র মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোটার তালিকায় নাম লেখানো ও ভোটদানে উৎসাহিত করার কাজ চালিয়ে আসছে কমিশন। এখন রাজনৈতিক উত্তাপের মুখে এই কার্যক্রমগুলো স্থগিত রাখার ফলে কমিশন বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মানুষ যাতে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে আগ্রহী হন, ভোট দিতে এগিয়ে আসেন, এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেই সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। গণতান্ত্রিক সচেতনতা কাদের মধ্যে জাগাতে হবে, সে বিষয়ে ইসি তার টার্গেট গ্রুপও তৈরি করেছে। প্রধানত জেন আলফা, অর্থাৎ যেসব স্কুলপড়ুয়ার বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে ও যারা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে এবং জেন–জি, যাঁদের বয়স ১৮ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। এই একই লক্ষ্যে সেখানে ‘ভোট পাঠশালা’র আয়োজন করা হয়।
সূত্র: প্রথম আলো








