সরকারি ১৮টি বাড়ি বিক্রিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ১৫টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এসব মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আদালত আজ মির্জা আব্বাসসহ সংশ্লিষ্ট সব আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ দুদক এই মামলাগুলো দায়ের করেছিল এবং ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি ও শান্তিনগরে অবস্থিত ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি বিক্রির প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছিল। দুদকের দাবি ছিল, তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে এসব বাড়ি বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিলেন। এতে সরকারের প্রায় ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দেওয়া উচ্চমূল্যের দর উপেক্ষা করে রাজউকের মাধ্যমে কম মূল্যে বাড়িগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়। প্রতি মামলায় মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
মামলাটিতে মির্জা আব্বাস ছাড়াও এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আবদুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম খালাস পেয়েছেন। এছাড়া আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আহমেদ আকবর সোবহান, মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ ও আলী হায়দার চৌধুরীকেও বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়েছিল, যারা রায়ে খালাস পেয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দরপত্রে অনিয়ম করে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি-সংক্রান্ত ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা ১৫ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস খালাস পেয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আদালত সূত্রে জানা গেছে, দরপত্রে কারচুপি ও অনিয়ম করে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রিতে দুর্নীতির অভিযোগে মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ১৫টি মামলা করে দুদক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।
সূত্র: প্রথম আলো








