কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়ায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক প্রশস্তকরণের মহাযজ্ঞ চলছে। তবে নগরীর গেটওয়েখ্যাত বনানী এলাকায় বিটিসিএল-এর একটি পরিত্যক্ত ভবন যেন পুরো প্রকল্পের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সাত বছর ধরে ভবনটি অপসারণের প্রক্রিয়া চললেও নানা প্রশাসনিক জটিলতায় তা আর এগোচ্ছে না। এর ফলে প্রশস্ত সড়কের একটি অংশ সংকুচিত হয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের জন্য ২০৪ দশমিক ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং এর বিপরীতে প্রায় এক হাজার ৯১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। গত ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সড়ক বিভাগের যৌথ অভিযানে এই প্রকল্পের আওতাধীন বগুড়ার বনানী থেকে শেরপুরের মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানের সময় ৫১ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা থেকে বেশিরভাগ স্থাপনা উচ্ছেদ করা সম্ভব হলেও বিটিসিএল-এর এই পরিত্যক্ত ভবনটি এখনো স্বস্থানে বহাল রয়েছে।
ভবনটির সামনে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বাস স্টপেজ এবং সপ্তাহে দুদিন হাটের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এতে যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, সামান্য প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে একটি মেগা প্রকল্পের সুফল এভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়া খুবই হতাশাজনক।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন বিটিসিএল-এর মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সমন্বয় না থাকাই ভবনটি রয়ে যাওয়ার মূল কারণ। বাজেট পুনর্নির্ধারণ, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে দুই দপ্তরের মধ্যে ফাইল চালাচালির কারণেই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রমের জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সম্মিলিত সময়সূচি মেলাতে না পারায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে বগুড়া সাসেক প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন কায়সার জানান, ২০১৯ সালে বিটিসিএল ৮৪ শতক জমি অধিগ্রহণ করে এবং এর বিপরীতে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। পরবর্তীতে জমিটি একটি বেসরকারি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় জটিলতা আরও বেড়েছে। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং শীঘ্রই ভবনটি অপসারণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।
২০১৯ সালে শুরু হওয়া সাসেক-২ প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হতে চলেছে। স্থানীয় পরিবহন ব্যবসায়ী আনোয়ার ও সেলিম দ্রুত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে ভবনটি অপসারণ ও মহাসড়কটি যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই গেটওয়ে এলাকার এই বাধা দূর না হলে মহাসড়ক প্রশস্ত করার আসল উদ্দেশ্য কতটা সফল হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় সূত্র বলছে, কোনো আইনি বা কারিগরি বাধার কারণে নয়, বরং আন্তঃসংস্থাগত প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণেই ভবনটি অপসারণে বিলম্ব হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অবৈধ দখলদারদের ৫১ জনের তালিকার অধিকাংশকেই উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে ভবন অপসারণের জন্য প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রয়োজনীয় পুলিশ সদস্য মোতায়েনের বিষয়েও সমন্বিত সময়সূচি না মেলায় উচ্ছেদ কার্যক্রম এগোচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে সেটি একটি বেসরকারি কোম্পানির হাতে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে বনানী গেটওয়ের এই সংকীর্ণ অংশটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা না গেলে মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাঙ্ক্ষিত সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








