ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে ওয়াজ মাহফিলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর গ্রামের যুবকদের সঙ্গে স্থানীয়দের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এই বিরোধের জেরে রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মির্জাচরের একদল যুবক আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চরলাপাং গ্রামের মেঘনা নদী তীরবর্তী বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর ও নারীদের মারধর করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে হোসেন মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান, নছর মিয়া, খায়ের মিয়া, আবুল কাশেম ও উজ্জল মিয়ার বাড়িতে এই লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা পিস্তল ও শর্টগানসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এবং কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয়দের মতে, এই হামলাটি ছিল দুর্ধর্ষ ডাকাতির চেয়েও ভয়াবহ। হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে স্থানীয়রা অবগত থাকলেও পরবর্তী হামলার ভয়ে কেউ তাদের নাম প্রকাশ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মেঘনা নদী তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, চরলাপাং গ্রামের ঘটনার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








