ন্যাটোর সদস্য হিসেবে বৈশ্বিক সামরিক মানচিত্রে তুরস্কের অবস্থান এখন অত্যন্ত সুদৃঢ়। মধ্যপ্রাচ্যসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি আঙ্কারা তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পথে অনেক দূর এগিয়েছে। ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার। এর সঙ্গে ৩ লাখ ৮০ হাজার রিজার্ভ সেনা এবং প্রায় দেড় লাখ আধাসামরিক সদস্য যুক্ত হয়ে মোট সেনাসংখ্যা ১০ লাখের কোটা ছাড়িয়েছে।
স্থলবাহিনীর সক্ষমতা তুরস্কের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দেশটির বহরে রয়েছে ২ হাজার ২৮৪টি ট্যাংক এবং প্রায় ৯৮ হাজার বিভিন্ন ধরনের সামরিক যান। এছাড়া গোলন্দাজ বাহিনীর শক্তি হিসেবে এক হাজারের বেশি স্বচালিত কামান, ৬৩৫টি টানা কামান এবং ২৩৭টি রকেট লঞ্চার মোতায়েন রয়েছে। আকাশপথে তুরস্কের সামরিক বহরে মোট ১ হাজার ১০১টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে ২০১টি যুদ্ধবিমান, ৮৪টি পরিবহন বিমান, ৩০১টি প্রশিক্ষণ বিমান এবং ৫০৯টি হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বহরের মূল শক্তি হলেও, নিজস্ব প্রযুক্তিতে কেএএএন যুদ্ধবিমান তৈরির কাজও এগিয়ে নিচ্ছে দেশটি।
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে তুরস্কের সবচেয়ে বড় সাফল্যের নাম ড্রোন। বায়কার কোম্পানির তৈরি বায়রাকতার টিবি-২ ড্রোন এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই সাফল্যের প্রতিফলন দেখা যায় দেশটির রপ্তানি আয়ে; ২০২৫ সালে তুরস্কের প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় তিন গুণ বেশি। বর্তমানে দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি কোম্পানি কাজ করছে এবং ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি প্রকল্প চলমান রয়েছে। দুই দশক আগে যেখানে সামরিক সরঞ্জামের মাত্র ২০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হতো, এখন তা ৮৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও তুরস্কের বড় উপস্থিতি রয়েছে। কৃষ্ণসাগর, এজিয়ান ও ভূমধ্যসাগরে সক্রিয় দেশটির নৌবহরে ১৭টি ফ্রিগেট, ৯টি করভেট এবং ১৪টি সাবমেরিনসহ মোট ১৯২টি জাহাজ রয়েছে। বসফরাস ও দার্দানেলিস প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ তুরস্ককে ভূ-রাজনৈতিকভাবে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি সিরিয়া, ইরাক, ইরান, জর্জিয়া ও বুলগেরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তে কৌশলগত অবস্থান ধরে রেখেছে।
দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ন্যাটো জোটের সদস্য হিসেবে যৌথ প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহযোগিতার সুবিধাও তুরস্ক কাজে লাগাচ্ছে। কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির বিরুদ্ধে অভিযান এবং সিরিয়া ও ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দেশটির বাহিনী নিয়মিত যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তবে আধুনিক সামরিক সক্ষমতা কেবল অস্ত্রের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না; বরং এসব সরঞ্জামের কার্যকারিতা, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অভিযোজন ক্ষমতা এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রমই তুরস্কের সামরিক শক্তিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে বর্তমানে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি কোম্পানি কাজ করছে এবং প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুরস্ক এখন নিজের অস্ত্র নিজেই তৈরির দিকে এগোচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব অস্ত্রের কতগুলো কার্যকর, আধুনিক যুদ্ধে কতটা সক্ষম এবং বিভিন্ন বাহিনী কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: গালফ বাংলা








