অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব শেখ সেলিমের, রাজনীতিতে নেই রেহানা: শেখ হাসিনা

প্রকাশ:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন দলের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-এর নির্বাহী সম্পাদক অমল সরকারের সঙ্গে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেন যে, তার ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণভবন থেকে ভারতে যাওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি দেশ ছাড়তে চাননি। হেলিকপ্টারে সীমান্ত অতিক্রম করার আগ পর্যন্ত তিনি জানতেন যে তাকে টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার পরও তাকে কেন ক্ষমতা ছাড়তে হলো, তা নিয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লক্ষ মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৪৬০টি থানা লুটসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও পুলিশের ওপর বীভৎস নির্যাতন চালানো হয়েছে।

দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ডিসেম্বর মাসকেই বেছে নিয়েছেন, কারণ এটি বিজয়ের মাস। তবে দেশে ফিরলে এয়ারপোর্টে তাকে হত্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।’ তিনি আরও বলেন, দেশ তার বাবার স্বাধীন করা এবং তিনি ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাই দেশে ফেরার জন্য কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত নকশার অংশ। তিনি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং মানুষের কষ্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় যখন দেখি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, তাতে যদি তার জীবনও যায়, তবুও তিনি মানুষের কাছে ফিরতে চান।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে। তার মতে, প্রতিবেশী দেশের অস্থিরতা এবং মৌলবাদ ভারতের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।’ এ সময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

পরিশেষে, তিনি কোনো সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। তার অভিযোগ, দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে এবং এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করল, (প্রধানমন্ত্রী) তারেককে ফিরিয়ে আনল—সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারতের অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনার এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বলেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে অন্য কারও জীবন যাতে বিপন্ন না হয়, সেই আশঙ্কাও বারবার উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার যদি আপনাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দেয় দেয় তাহলে আপনার কিভাবে দেশে ফেরা সম্ভব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন- দেশটা আমার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা এই দেশেই ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়েছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর রাজনীতিতো স্কুল জীবন থেকেই আমি শুরু করেছি।

শেয়ার করুন