কুমিল্লায় আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ বিস্তারিত তথ্য সামনে এনেছে। রোববার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, ঘটনার দিন বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দ নামক পাহাড়ি ও নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আসামিরা। অপ্রতিম তাতে বাধা দিলে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় উপর্যপুরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিনকে আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পুরো বিষয়টি বেরিয়ে আসে। ১৯ বছর বয়সী তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ২০২৫ সালে ড্রপআউট হয়েছে। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফাহাদ ও কামরুলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসামির বাসার তোশকের নিচ থেকে ছিনতাই করা আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে, যার সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ঘটনায় সরাসরি জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছি। তদন্তের স্বার্থে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মামলার মতো এই ঘটনায়ও দ্রুত চার্জশিট প্রদানের জন্য আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে আবেদন জানাব।’
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায়। কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ না মেলায় মা ড. নাহিদা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের সন্ধান চেয়ে আবেদন করেছিলেন। পরিবারের একমাত্র সন্তান অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ও মা ড. নাহিদা বেগম, যিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
পরদিন শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ এ ঘটনায় তৎপর ছিল এবং তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল। অপ্রতিম ও আসামিদের এই নির্মম কর্মকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিহত অপ্রতিম ও আসামি তুহিনের বয়স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই, তার (অপ্রতিম) বয়স ১৩, আর আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন, তার বয়স ১৯। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ঘটনায় ফাহাদ এবং তার আরেক এক বন্ধু জড়িত ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুহিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি এবং ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইফোনটি পেতে তিন জায়গায় আমরা অভিযান চালাই।
সূত্র: মানবজমিন








