জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদানের লক্ষ্যে আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চারদিনের এই সফরে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। নিউইয়র্কে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ৩৫ জনের একটি প্রতিনিধিদল থাকছেন, যার মধ্যে চারজন মন্ত্রী এবং দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জনকূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার বিষয়ক অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম। পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে, বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরুর পর বিশ্বমঞ্চে এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম অংশগ্রহণ, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবারের অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন, যা দেশের জন্য বাড়তি অর্জন।

প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যগণ

  • অর্থমন্ত্রী: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
  • পর্যটনমন্ত্রী: এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
  • আইনমন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান
  • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ড. খলিলুর রহমান (নিউইয়র্কে যোগ দেবেন)
  • রাজনৈতিক প্রতিনিধি: সাইফুল হক (রেভ্যুলশনারি ওয়ার্কার্স পার্টি)
  • রাজনৈতিক প্রতিনিধি: সৈয়দ গোলাম মহিউদ্দিন (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ)

সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। ওইদিন সকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন এবং অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিতি থাকবে।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং জলবায়ু কার্যক্রম বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত সাইড ইভেন্টে তিনি দ্রুত প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত সভায় জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি। একই দিন বিকালে সাধারণ বিতর্ক পর্বে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন।

সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, পাকিস্তান, ভুটান, থাইল্যান্ড, হাইতি ও ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসবেন। অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট ও মেটার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার বৈঠকের সূচি নির্ধারিত রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরমধ্যে রয়েছেন ৪ জন মন্ত্রী ও ২ জন রাজনৈতিক ব্যক্তি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পররাষ্ট্র সচিবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। চাকরির আরও তথ্য: এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক সাইড ইভেন্টে দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি।

শেয়ার করুন