প্রতিটি সরকারি দপ্তরে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার, বললেন এমপি মনিরুল

প্রকাশ:

রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখলেও সরকারি দপ্তরগুলোতে তারা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার প্রবাসীদের দুর্ভোগ ও ভোগান্তির চিত্র সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন তিনি। পাসপোর্ট অফিস থেকে শুরু করে এনআইডি অফিস, জন্মনিবন্ধন শাখা এবং বিমানবন্দর—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রবাসীদের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অথচ বাস্তবে তাদের মতো নির্যাতিত ও হয়রানির শিকার মানুষ খুব কমই আছেন। দেশে ফিরে পাসপোর্ট নবায়ন কিংবা সংশোধন করতে গিয়েও তাদের প্রতিনিয়ত নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সরকারি সেবার প্রতিটি পর্যায়ে প্রবাসীদের অপমান ও ভোগান্তির শিকার হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। যাদের পাঠানো অর্থে দেশের অর্থনীতি টিকে আছে, তাদের পাসপোর্ট নবায়ন কিংবা সংশোধনের মতো কাজে কেন বারবার দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেও মাঠ পর্যায়ে অব্যবস্থাপনা রয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে এই ভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. নুরুল হাফিজের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান তিনি। আলোচনা শেষে আগামী রবিবার থেকে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এমপি। বৃহত্তর কুমিল্লার মানুষের জন্য পাসপোর্ট সেবা সহজলভ্য করতে জেলাটির উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত দুটি সাব-অফিস স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এছাড়া উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ সাপেক্ষে কুমিল্লায় একটি বিভাগীয় কার্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। বিমানবন্দরে হয়রানি আগের তুলনায় কমছে।’।

অফিসকে দালালমুক্ত রাখা এবং স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে তিনি কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পুলিশ সুপারও এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পরিদর্শন শেষে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি স্বচ্ছ ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। বর্তমান সরকার প্রবাসীদের বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক, তাই সেবার মান উন্নত করা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন।

শেয়ার করুন