প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে খেলতে যাওয়ার উচ্ছ্বাস স্পষ্ট ছিল বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন দাসের কণ্ঠে। প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে কিছুটা তাড়াহুড়ো থাকলেও বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন টাইগার অধিনায়ক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এমন একটি মহাদেশীয় ক্রীড়াযজ্ঞে অংশ নিতে পারাটা তার কাছে গর্বের। জাতীয় দলের হয়ে খেলার বাইরেও এই ধরনের বড় আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগটি দলের সব ক্রিকেটারের জন্যই এক বিশেষ প্রাপ্তি।
লিটন দাস বলেন, জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার আনন্দ তো রয়েছেই, তবে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে দেশের নাম উজ্জ্বল করাটা ভিন্ন এক অনুভূতি। অন্য সাধারণ টুর্নামেন্টে জয় মানে ট্রফি জেতা, কিন্তু এখানে সোনা জেতার স্বপ্ন কাজ করে। এটি প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্যই অনেক বড় একটি রোমাঞ্চের বিষয়। আগে কখনোই এশিয়ান গেমসে মূল দল পাঠায়নি বাংলাদেশ। এবার শক্তিশালী দল গঠন করায় এই আসরটি অনেকটা ‘দ্বিতীয় এশিয়া কাপ’-এর রূপ পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পদক জয়ের প্রত্যাশার বিষয়ে লিটন বলেন, সবাই ভালো ফলাফলের আশা করে, আমিও ব্যতিক্রম নই। এই টুর্নামেন্ট প্রতি বছর আসে না, তাই প্রতিটি ম্যাচকেই গুরুত্বের সাথে নেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—ফাইনালে খেলা এবং শিরোপা জেতা। প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে, দুটি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলে আমরা কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। জাপানের আইচি নাগোয়ার করোগি স্পোর্টস পার্কের মাঠ ও পিচ আমাদের জন্য নতুন। তাই নারী দলের ম্যাচগুলো টিভিতে দেখে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে বোঝার চেষ্টা করেছি আমরা।
এশিয়ান গেমসের এই আসরটি ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবেও দেখছে বিসিবি। অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেখানে সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে দারুণ আগ্রহী লিটন। তিনি বলেন, অলিম্পিকে কে না খেলতে চায়! এই ইভেন্টে ভালো করলে অলিম্পিকে জায়গা পাওয়া সহজ হবে। তবে সেখানে কোয়ালিফাই করার সমীকরণ বেশ জটিল। এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ও ইউরোপ থেকে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলগুলো সরাসরি সুযোগ পাবে, যার ফলে ভারতকে টপকে বাংলাদেশের সরাসরি কোয়ালিফাই করাটা কঠিন চ্যালেঞ্জ।
বাছাইপর্বের জটিল সমীকরণ পাড়ি দিয়ে অলিম্পিকের টিকিট নিশ্চিত করাটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয় বলে বিশ্বাস টাইগার অধিনায়কের। পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মতো দলের সাথে লড়াই করে সেরা হওয়াটা বড় পরীক্ষা। তবে সরাসরি অলিম্পিকে সুযোগ পেয়ে অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে চান লিটন। তিনি বলেন, দেশের জন্য কিছু করতে পারা অনেক বড় বিষয়। খেলাধুলার মাধ্যমে যদি অন্য কোনো ডিসিপ্লিনের জন্য সুযোগ তৈরি করা যায়, আমরা তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্ট খেলতে বৃহস্পতিবার দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই শুরু হবে, তবে বাংলাদেশ কাদের বিপক্ষে খেলবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত সোনা জিতে ইতিহাস গড়ার প্রত্যাশাতেই মাঠে নামবে লিটন দাসের দল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলে খেললেও এবারই প্রথম এশিয়ান গেমসে খেলতে যাচ্ছেন লিটন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে রোমাঞ্চটা সবার মধ্যেই কাজ করছে সেরকম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লিটনের কণ্ঠে টের পাওয়া গেল সেই রোমাঞ্চটা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: লিটন বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলাটাই বড় জিনিস, সঙ্গে এ রকম জায়গায় খেলা এটাও একটা বড় জিনিস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটা একটা বড় স্বপ্ন, আমার মনে হয় সব ক্রিকেটার রোমাঞ্চিত।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বাভাবিকভাবেই এশিয়ান ক্রিকেটের আরেকটি বড় ইভেন্ট হতে যাচ্ছে এটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন পর্যন্ত আসরে তেমন সাফল্যের দেখা পায়নি বাংলাদেশ।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








