কলকাতায় বঙ্গসেনার মিছিল: বাংলাদেশকে ভাগ করে ‘বঙ্গভূমি’ গঠনের দাবি

প্রকাশ:

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ব্যস্ততম এলাকা শিয়ালদহ থেকে সম্প্রতি বঙ্গসেনার একটি মিছিল বের হয়। রাজপথ ধরে এগিয়ে যাওয়া এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘বঙ্গসেনা দিচ্ছে ডাক, বাংলাদেশকে কর ভাগ’ এবং ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, ওই আমাদের ঠিকানা’র মতো স্লোগান দেন। মিছিলে নারী সদস্যদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়, যারা বিভিন্ন পোস্টার ও ব্যানার বহন করছিলেন। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, তারা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ‘বঙ্গভূমি’ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু করেছেন।

সংগঠনটির প্রধান মুখপাত্র সুভাষ মজুমদার জানান, তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের ২১টি জেলা। প্রাথমিকভাবে তারা ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া ও বরিশাল—এই ছয়টি জেলা নিয়ে ‘বঙ্গভূমি’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছেন। তবে পরবর্তীতে তারা রংপুর জেলাকেও এই দাবির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মুখপাত্রের দাবি, বাংলাদেশের ‘চিকেন নেক’ করিডোর নিয়ে ভারতের নিরাপত্তার উদ্বেগের বিষয়টি মাথায় রেখেই তারা রংপুরকে বঙ্গভূমিতে শামিল করতে চান। তাদের দাবি মানা না হলে বঙ্গসেনা যেকোনো কঠোর পন্থা অবলম্বন করতে পিছপা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ বিষয়ে জাতিসংঘেও চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

বঙ্গসেনার সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পার্থ সামন্তর নাম থাকলেও, সুভাষ মজুমদার জানান যে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। সংগঠনের সেনাধ্যক্ষ নারায়ণ দাস জানান, বঙ্গসেনার সদর দপ্তর আসামের কার্বি আংলং জেলায় অবস্থিত। এছাড়া ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়েও তাদের কার্যক্রম রয়েছে। তবে সেনাদের প্রশিক্ষণের স্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি একে ‘গোপন বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে এড়িয়ে যান।

নারায়ণ দাস ও সুভাষ মজুমদার উভয়েই দাবি করেন যে, বাংলাদেশের বেশ কিছু হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। ‘হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’-এর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সেনাধ্যক্ষ জানান, পরিষদের নেতাদের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করতে চান না। তাদের দাবি, একসময় বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ ভূমি হিন্দুদের দখলে ছিল, যার মধ্যে থেকে তারা মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দাবি করছেন।

উল্লেখ্য, বঙ্গসেনার সদস্যদের ইউনিফর্মের রঙ লাল এবং মিছিলে অংশগ্রহণকারী নারীরাও লাল শাড়ি পরে প্রতিবাদে অংশ নেন। সংগঠনের দাবি, বাংলাদেশ ভেঙে তারা এই নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে বদ্ধপরিকর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছি, তাই ‘বঙ্গভূমি’র দাবি তুলেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে আমরা এগুলি গোপন রাখি, কারণ তা না হলে পরিষদের নেতারা বিপদে পড়তে পারেন।’ তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের ভূমির ৮০ শতাংশ একসময় হিন্দুদেরই ছিল, যার মধ্য থেকে তারা মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দাবি করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় আবার বঙ্গসেনার আবির্ভাব ঘটেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জনবহুল ও ব্যস্ত শিয়ালদহ থেকে একটি মিছিল রাজপথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনেকেই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে এই মিছিল দেখতে থাকেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যানার ও লিফলেট থেকে এই সংগঠনের পরিকাঠামো সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পদ্মার দক্ষিণ পাড় ও মেঘনার পশ্চিম পাড়ে যে ছয়টি জেলা রয়েছে, সেগুলি হিন্দুদের হাতে তুলে দিতে হবে।

শেয়ার করুন