কাতারে বোমা হামলার কথা দম্ভের সঙ্গে স্বীকার করলেন নেতানিয়াহু

প্রকাশ:

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দম্ভের সঙ্গে স্বীকার করেছেন যে, তিনি কাতারে বোমা হামলা চালিয়েছেন। শনিবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ হিসেবে অভিহিত করেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি, তাদের ওপর বোমা ফেলেছি এবং যুদ্ধের সময় তাদের আক্রমণ করেছি।’

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরাইল এই হামলা চালায়। ওই ঘটনায় হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামলার সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছিল। এই হামলার এক বছর পূর্তির কয়েক দিন আগেই নেতানিয়াহুর এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে এল।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত কাতার ২০১২ সাল থেকে হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় পরিচালনা করছে। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই এই কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল। দোহায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এটিকে ‘কাপুরুষোচিত’ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেন।

ইরান ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ এই হামলার নিন্দা জানায়। কাতারের প্রতি সংহতি প্রকাশে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা দোহা সফর করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই ঘটনাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানিকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।

ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারের অর্থ সহায়তা নিয়েও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের সহযোগিতায় মানবিক সহায়তার নামে যে কোটি কোটি ডলার গাজায় পাঠানো হয়েছিল, তা ছিল মোট অর্থের মাত্র ২ শতাংশ। তার ভাষ্যমতে, মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশেই এই অর্থ পাঠানো হয়েছিল।

তবে সমালোচকদের অভিযোগ, কাতারের এই অর্থ হামাসকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলার প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করেছে। কাতার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, হামাসকে অর্থায়নের কোনো ভিত্তি নেই এবং তাদের সব সহায়তা গাজার সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পৌঁছেছে, যা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রও অবগত ছিল।

গত বছরের দোহা ফোরামে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ইসরাইল যে অর্থায়নের অভিযোগ তুলছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। কাতার জোর দিয়ে বলেছে, তাদের সহায়তা কঠোর নজরদারির মাধ্যমেই গাজায় বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ও রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগামী মাসে ইসরাইলের আইনসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই হামলার পর গাজায় ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু হয়।

শেয়ার করুন