বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস আউটরিচ পর্বে অংশ নিচ্ছেন না—এমন তথ্য পাওয়ার পর থেকেই তার ভারত সফর নিশ্চিত করতে বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে দিল্লি। প্রায় পাঁচ মাস আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে ব্যক্তিগতভাবে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত জটিল ইস্যুটিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পথে বাধা হতে না দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ওপর জোর দিচ্ছে ভারত। এমনকি তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাকে খালি হাতে ফেরাতে চায় না দিল্লি, বরং তাকে ‘অভাবনীয়’ কোনো কূটনৈতিক উপহার দেয়ার ইঙ্গিতও রয়েছে।
ভারতের রাজ্যসভায় বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্পগুলো নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারত কাজ করছে, যা রেল, সড়ক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসারে সহায়ক হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে বিধিনিষেধগুলো আরোপিত হয়েছিল, সেগুলো তুলে নেয়ার বিষয়টিও ভারতের বিবেচনায় রয়েছে। কূটনীতিকদের মতে, হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি একটি দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়া, তাই একে এড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে দ্রুত আলোচনা শুরু করা জরুরি।
ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের আগেই বা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তারেক রহমানের ভারত সফর সম্পন্ন করা সবচেয়ে ভালো। কারণ, এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যস্ততা বেড়ে যাবে। এই সফর নিশ্চিত করতে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের সঙ্গে হাইকমিশনারের একান্ত বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লি গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বাংলাদেশের মনোভাব সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন। ঢাকা ও দিল্লিতে এ নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর হবে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সফরের অংশ হিসেবে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দিনের এই সফরটি দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি হিসেবে সাজানো হচ্ছে, যদিও সময়সূচি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ভারত সরকার তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আটকে না থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব কতটা- সেটা স্পষ্ট করা হয়েছে ভারতের তরফে।
মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে সব বিধিনিষেধ ভারত চাপাতে বাধ্য হয়েছিল সেসব উঠিয়ে নেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
কেননা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর পর বছরভর নানা ভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন।
রাজনৈতিক পযর্বেক্ষক মহলের মতে, ভারতের ঘোষণা থেকে বোঝা যাচ্ছে- ড.
ভারতেরও এ ধরনের বহু প্রত্যর্পণের অনুরোধ বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর আটকে রয়েছে।
ফলে অদূর ভবিষ্যতে সেই সফরের সম্ভাবনা থাকবে না।
হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশের কড়া মনোভাবের মুখে পড়েছে ভারত।
এর পরেই ভারতীয় হাইকমিশনার তড়িঘড়ি দিল্লি চলে আসেন।
তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তাদের বাংলাদেশের মনোভাব জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও বৈঠকে বিস্তারিত জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে সফরের সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলমান বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সূত্র: মানবজমিন








